হেদায়েতের পথে কীভাবে অবিচল থাকবেন
কোরআনের মানদণ্ড মানুষকে দুটি স্পষ্ট ভাগে বিভক্ত করে দেয়—একদল যারা ওহির আলোতে সত্যকে চিনতে পেরেছে, অন্যদল যারা মরীচিকার পেছনে ছুটে ভ্রষ্টতার অন্ধকারে হারিয়ে গেছে।
কোরআনের মানদণ্ড মানুষকে দুটি স্পষ্ট ভাগে বিভক্ত করে দেয়—একদল যারা ওহির আলোতে সত্যকে চিনতে পেরেছে, অন্যদল যারা মরীচিকার পেছনে ছুটে ভ্রষ্টতার অন্ধকারে হারিয়ে গেছে।
কোরআনের বিধান পরিবর্তন হওয়া মানে এই নয় যে আল্লাহ তাঁর সিদ্ধান্ত পাল্টাচ্ছেন, বরং এটি হলো মানবজাতির ক্রমবিকাশ ও পরিস্থিতির প্রয়োজনে আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত।
সম্পদের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কোরআনে সম্পদের উপার্জন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনেকেই হয়তো আমাদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন বা কষ্ট দেন। কষ্ট মনে পুষে রেখে প্রতিহিংসা পরায়ণ হওয়ার চেয়ে ক্ষমা করে দেওয়া অনেক বেশি সম্মানের।
হঠাৎ পাশ থেকে একটি রিকশা আপনার গায়ে ধাক্কা দিল। ব্যথা পেলেন। এক সেকেন্ড—শুধু এক সেকেন্ডের মধ্যে ভেতরে রক্ত গরম হয়ে গেল, গলা শুকিয়ে এল।
একটা চিন্তা শেষ হয় না, আরেকটা শুরু হয়। এই অবস্থার নাম ‘ওভারথিংকিং’। আজকের পৃথিবীতে লাখো মানুষ প্রতি রাতে এই যন্ত্রণায় ভোগে। সমাধান কী?
জাগতিক ব্যস্ততায় নেক আমলের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে যায় না যেন, সেই ইস্তিকামাহ বজায় রাখতে পবিত্র কোরআনের ১০টি শক্তিশালী আয়াতের অনুপ্রেরণা। এগুলো পাঠ করে মানসিক দৃঢ়তা ও আধ্যাত্মিক জোর পাওয়া যায়। ধৈর্য, তওবা ও পারস্পরিক উপদেশের মাধ্যমে নেক পথে অবিচল থাকুন।
আমরা কোরআনের অনেক আয়াতেই দেখতে পাই, জৈবিক ও আত্মিক, দুনিয়া ও আখেরাতের অগ্রাধিকার ও ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষার মধ্যে সমন্বয় করার কথা বলা হয়েছে।
ইসলামি আইনের উদ্দেশ্য প্রতিশোধ গ্রহণ নয়; বরং সমাজকে সুরক্ষিত রাখা এবং অপরাধীকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া। যেখানে আল্লাহর হক জড়িত, সেখানে ইনসাফের জন্য কঠোরতা করা হয়েছে।
প্রায়ই দেখা যায়, মসজিদ নির্মাণ, মিনারের সৌন্দর্যবর্ধন কিংবা মসজিদের এয়ার কন্ডিশনার ও দৈনন্দিন পরিচালনা খরচের জন্য জাকাতের ফান্ড থেকে অর্থ সংগ্রহ বা প্রদান করা হয়।
ইসলামে প্রাত্যহিক জীবনের প্রয়োজনীয় কাজকর্ম বর্জন করতে বলা হয়নি, বরং দুনিয়াকে চূড়ান্ত লক্ষ্য বানিয়ে ফেলা এবং এর অন্ধ মোহে পড়ে আখেরাত ভুলে যাওয়াকে কঠিনভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
জীবনে যে যত বেশি ভালো আমল করবে, তিনি তত বেশি উঁচু স্তরে থাকবেন। কেউ তার প্রাপ্যের চেয়ে কম পাবেন না। এখানেই আফসোসের জায়গাটা।