
খামেনি হত্যায় মোদির নীরবতা অস্বস্তিকর
ভারত সরকার এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেনি; ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের বিরুদ্ধেও সরব হয়নি।

ভারত সরকার এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেনি; ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের বিরুদ্ধেও সরব হয়নি।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোল মাদুরোকে ধরে আমেরিকায় এনে বিচার করা, আর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে হত্যা করা—এই দুই ঘটনা আলাদা অঞ্চলে ঘটলেও একসঙ্গে পড়লে একটা বড় প্রশ্ন সামনে আসে।

ইরানে পশ্চিমাদের হস্তক্ষেপ যাঁরা সমর্থন করে আসছেন, তাঁরা বহু বছর ধরে যুক্তি দিয়ে আসছেন—ইরানের বিদ্যমান সরকার দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক ক্ষয় ও সামাজিক স্থবিরতার মধ্য দিয়ে পুরো দেশের যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করছে, তা বাইরের দেশের সহিংস বিদেশি হস্তক্ষেপের ঝুঁকির চেয়ে বেশি ক্ষতিকর।

খামেনিকে হত্যার পরও অনেক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা সন্দিহান, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে দুই দেশের যৌথ সামরিক অভিযানে আদৌ শাসনগোষ্ঠীর পরিবর্তন হবে কি না।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের খবরে ব্যথিত হওয়ার কথা জানিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থী কাজ হয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে—আইআরজিসিকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্পের বার্তা কেন বাস্তবে কোনো প্রভাব ফেলল না?

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অভিযানে একটি কর্মবণ্টন থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

হামলার জবাবে তেহরান দৃশ্যত চারদিকে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য এক নজিরবিহীন অস্থিরতার মুখে পড়েছে।

ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য অগ্রাধিকার সামরিক ও রাজনৈতিক সংহতি বজায় রেখে আঘাত সহ্য করা এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া।

ইরান গতকাল সে দেশে হামলায় হতাহতের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করেনি। আর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গতকাল ইসরায়েলে ৯ জন নিহত ও ৫১ জন আহত হয়েছেন।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে দেশে দেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী তীব্র বিক্ষোভ চলছে।

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড ইরানের জন্য একটি বিরাট ধাক্কা। তবে এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন ঘটবে না বা তাতে সংঘাত কমবে না।