
‘স্বস্তির ঈদযাত্রা’, নাকি কাঠামোগত হত্যা
বাংলাদেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে নিয়মিতভাবে যেসব ঘটনায় বহু মানুষ আহত-নিহত হচ্ছেন, সেসব ঘটনা স্রেফ কিছু ব্যক্তির খেয়ালখুশি বা বেপরোয়া আচরণের কারণে ঘটছে এমন নয়।

বাংলাদেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে নিয়মিতভাবে যেসব ঘটনায় বহু মানুষ আহত-নিহত হচ্ছেন, সেসব ঘটনা স্রেফ কিছু ব্যক্তির খেয়ালখুশি বা বেপরোয়া আচরণের কারণে ঘটছে এমন নয়।

ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১৫ দিনে ৩৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯৮ জন নিহত, প্রতিদিন গড়ে ২০ জন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও ১২টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর এম সাইফুল আলম সংসদে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের ঈদযাত্রায় 'স্বস্তি' মন্তব্যের সমালোচনা করেন। ঈদে ১৭০-৩৭০ জন মৃত্যুর পর প্রশ্ন তুলে বলেন, আর কত লোক মারা গেলে অস্বস্তি হবে? তিনি মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলেন।

ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌপথে ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৮৮ জন আহত হয়েছেন। সড়কপথেই সবচেয়ে বেশি ৩৪৬ দুর্ঘটনায় ৩৫১ জনের মৃত্যু ঘটেছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এ তথ্য এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে।

ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌপথে ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত ও ১ হাজার ২৮৮ জন আহত হয়েছেন। যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এবারও সবচেয়ে বেশি হয়েছে।

বেসরকারির চেয়ে সরকারি হিসাবে মৃত্যু অনেক কম। সেই হিসাব দিয়ে মন্ত্রী বললেন, যেকোনো সময়ের চেয়ে নিরাপদ ছিল ঈদযাত্রা।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সাম্প্রতিক ঈদযাত্রা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে স্বস্তিদায়ক হয়েছে। সব গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকিং চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামী ঈদুল আজহার জন্য যানজটমুক্ত যাত্রা নিশ্চিত করতে নতুন সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, কোনো লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা বা যাত্রীদের সঙ্গে টানাহেঁচড়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে লঞ্চমালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওই বগিতে থাকা অন্তত ছয়জন যাত্রী রক্তাক্ত হলেন। তাদের মধ্যে রায়ান নামের তিন বছর বয়সী এক শিশুও ছিল। নির্মম এই খেলা থেকে রেহাই পায়নি ওই নিষ্পাপ শিশুটি।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এবার পদ্মা সেতু দিয়ে ৩ দিনে ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

এর মধ্যে উত্তরবঙ্গের দিকে গেছে ১ লাখ ১২ হাজার ৩০৮টি যানবাহন এবং উত্তরবঙ্গ থেকে টাঙ্গাইলের দিকে এসেছে ৬৭ হাজার ৪৮৭টি।

ঈদযাত্রায় যাত্রীদের ভোগান্তির অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী।