ছয় বছরের মধ্যে ইরানের তেল রপ্তানি সর্বনিম্ন, মার্কিন নৌ অবরোধের জের
গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে যে নৌ অবরোধ শুরু করে ওয়াশিংটন, তা ইরানকে শান্তিচুক্তির শর্ত মেনে নিতে চাপ প্রয়োগের কৌশলের অংশ।
গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে যে নৌ অবরোধ শুরু করে ওয়াশিংটন, তা ইরানকে শান্তিচুক্তির শর্ত মেনে নিতে চাপ প্রয়োগের কৌশলের অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সোমবার থেকে ইরানের সব বন্দর অবরোধ করার হুমকি দিয়েছে। পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই ঘোষণা সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরোধের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি যুদ্ধ থেকে অর্থনৈতিক যুদ্ধের পথে হেঁটেছেন। এই কৌশল মূলত নতুন করে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলা করা ছাড়াই সংঘাত শেষ করার চেষ্টা।
মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানি বন্দরে নৌ অবরোধের কারণে অন্তত চার মাস বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটবে না। পারস্য উপসাগরে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০১ ডলার ছাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধ এবং জরাজীর্ণ অবকাঠামোর সংকটে কিউবায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলেছেন। ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব নিষ্পত্তি হয়েছে। অবরোধ তুললে তারা প্রণালি খুলে দেবে বলে জানিয়েছে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানত ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানাচ্ছে না, তবু ইসরায়েলের মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়ায় বলে দাবি করেছেন সাবেক সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকর্তা জো কেন্ট। হোয়াইট হাউস এই দাবিকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। যুদ্ধবিরতি চললেও অবরোধ অব্যাহত রয়েছে।
কিউবার হাভানায় মার্কিন অবরোধের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ধ্বংসপ্রাপ্ত। জ্বালানি সংকটে হাসপাতালে ওষুধ-পরীক্ষা নেই, শিশুমৃত্যুর হার দ্বিগুণ বেড়েছে। ওভেন জোন্সের চোখে যুক্তরাষ্ট্রের এই নীরব যুদ্ধের ভয়াবহ চিত্র।