পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, চাপে সাধারণ মানুষ
গত এক-দুই মাসে প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। চলতি মাসে দুই দফায় এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে বাড়তি চাপে পড়েন সীমিত আয়ের মানুষ।
গত এক-দুই মাসে প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। চলতি মাসে দুই দফায় এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে বাড়তি চাপে পড়েন সীমিত আয়ের মানুষ।
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বাজারে নির্মাণসামগ্রীর দাম বেশ ওঠানামা করছে। বিশেষ করে ইস্পাত পণ্যের দাম বাড়তি রয়েছে।
চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। আবার কেউ কেউ সুযোগ বুঝে অতিরিক্ত দামও রাখছেন।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহ ও চাহিদা স্বাভাবিক থাকায় প্রযুক্তিপণ্যের দাম পরিবর্তন হয়নি। আর তাই র্যাম, প্রসেসর, মাদারবোর্ড, মনিটরসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে।
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে প্লাস্টিক কাঁচামালের দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে, সরবরাহ কমেছে। ফলে উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে এবং পণ্যের দাম বাড়ছে। খাদ্য-ওষুধ থেকে পোশাক পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আজ রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজার আকস্মিক পরিদর্শন শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, কোনো কোনো পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় কেজিতে ১৫–২০ টাকা কম আছে।
ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আগামীকাল শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। রোজা এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। নওগাঁর বাজারে ইতিমধ্যে লেবু, কাঁচা মরিচ, বেগুন, শসা, আদা, রসুনসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর থাকায় হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম সীমিত রয়েছে। সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় তেল-গ্যাস ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে—বিশেষ করে এলএনজি ও অন্যান্য খাতে ভারসাম্য ফিরতে। বড় শক্তি এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সমন্বয় ছাড়া পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ঢাকা চেম্বারের প্রাক্-বাজেট আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, আগামী বাজেটে ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো খড়্গ আসবে না। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে, যা সরকারের আর্থিক সক্ষমতা সংকুচিত করেছে। বক্তারা করজাল সম্প্রসারণ, ব্যাংকের ভঙ্গুরতা ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে আলোচনা করেন।
করোনার পর থেকে দেশে চিনির ব্যবহার প্রায় ৩৩% কমেছে। নেপথ্য কারণ স্বাস্থ্যসচেতনতা, দাম ও চিনিমুক্ত পণ্যের প্রসার, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুই দিনের ব্যবধানে দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে এমন পণ্যের তালিকায় লেবুর পাশাপাশি রয়েছে পেঁয়াজ ও মুরগি।