বাজারে এল রাজশাহীর হিমসাগর, ঈদের পর সরবরাহ বাড়লেও ক্রেতা কম
ঈদের ছুটি প্রায় শেষ হলেও রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের হাট বানেশ্বরে এখনো বেচাকেনার গতি ফেরেনি। বাজারে প্রতিদিন আমের সরবরাহ বেড়েছে। তবে সেই তুলনায় ক্রেতা ও পাইকারদের উপস্থিতি কম।
ঈদের ছুটি প্রায় শেষ হলেও রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের হাট বানেশ্বরে এখনো বেচাকেনার গতি ফেরেনি। বাজারে প্রতিদিন আমের সরবরাহ বেড়েছে। তবে সেই তুলনায় ক্রেতা ও পাইকারদের উপস্থিতি কম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাম উচ্চারণ করলেই মনে পড়ে শত বছরের আমের ঐতিহ্য—ফজলি, ক্ষীরসাপাতি, ল্যাংড়া, আশ্বিনা। এখানকার মানুষ গর্ব করে বলে, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটিতে মধু আছে।’
মিনারুল হকের বাগানে এখন আর মৌসুমের সেই কোলাহল নেই। কয়েক সপ্তাহ আগেও থাই চিয়াংমাই, ব্রুনেই কিং, রেড পালমার কিংবা হানিডিউ আমগাছের নিচে ভিড় করতেন ক্রেতারা। কেউ গাছ থেকে পছন্দের আম বেছে নিচ্ছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার আগেই বুকিং দেওয়া আম বুঝে নিচ্ছেন। এখন সেই গাছগুলোর বেশির ভাগই ফলশূন্য
রাজশাহীতে টানা তাপপ্রবাহে এবং বৃষ্টির অভাবে অর্থকরী ফল আমের বাগানগুলোতে দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রভাব। মাটিতে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় গাছ থেকে ঝরে পড়ছে কাঁচা আম; কোথাও কোথাও পচন ও পোকার আক্রমণও দেখা যাচ্ছে।
আমের মুকুল আসার পর থেকে অনাবৃষ্টি ও খরায় দুশ্চিন্তায় ছিলেন নওগাঁর আম ও বোরো চাষিরা। অপেক্ষা শেষে ফাল্গুনের বৃষ্টি তাঁদের কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
বছরে ছয়-সাত মাস আমবাগানে কাজ করে মাসে প্রায় ১৫ হাজার টাকা আয় করেন রুহুল আমীন। আমন মৌসুমে ধান কাটেন, বাকি সময়ে যা কাজ পান, তা–ই করেন।
পুকুরভরা মাছ, সাঁতরাচ্ছে হাঁস, পাশে আমবাগান
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মতলব সরকারি ডিগ্রি কলেজে স্নাতক তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন মো. ইমন (২২)। লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবার স্বপ্ন পূরণে গত বছর গড়ে তুলেছেন আমের বাগান ও নার্সারি।
বান্দরবান সদর থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে রুমা উপজেলার রোয়াংছড়ি-রুমা সড়কের দুর্গম চান্দাপাড়ায় ১২ একর জমিতে আমের বাগান করেছিলেন বাগানি আতুইমং মারমা। বাগানটির দুই হাজার গাছে স্থানীয় জাতের রাংগোয়াই আমের ফলন এসেছে। প্রায় অর্ধেক গাছের আম পেকেও গেছে। তবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা কেনার আগ্রহ দেখাননি। এ কারণে গাছ থেকে পাকা আম মাটিতে ঝরে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। আম বিক্রি না হওয়ায় আতুইমং মারমা বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন।