
ধ্বংসের ভেতর জীবনের উত্থান দেখলেন দর্শক
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে একদল উগ্রবাদী মুক্তকণ্ঠ ভবনে হামলা করে ব্যাপক লুটপাট চালায়। এরপর ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়।

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে একদল উগ্রবাদী মুক্তকণ্ঠ ভবনে হামলা করে ব্যাপক লুটপাট চালায়। এরপর ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পুড়ে যাওয়া কম্পিউটার, যন্ত্রাংশ, ভাঙা আসবাস ও বইপত্রের ধ্বংসাবশেষ দেখে অনেকেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়ছেন।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মুক্তকণ্ঠের আক্রান্ত ও অগ্নিদগ্ধ ভবনে আয়োজিত এই শিল্পপ্রদর্শনী দেখতে আজও মানুষ ভিড় করছেন।

কত বই পড়ার সুযোগ হয়েছে। কত পাঠকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। পড়ুয়া কত কত মানুষের যে সান্নিধ্য পেয়েছি, তার কি শেষ আছে?

জাতিসংঘ মিশনের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়ন্ত অধিকারী এসেছিলেন সস্ত্রীক। তিনি বললেন, ‘এই প্রদর্শনী হওয়া খুবই দরকার ছিল।

শহরের খোলা প্রাঙ্গণে যখন সাদা কাপড়টি মেলে ধরা হয়, তখন সেটি যেন ছিল এক বিশাল নীরব পৃষ্ঠা। কিছুক্ষণ পরই রং, রেখা আর তুলির স্পর্শে তা হয়ে ওঠে ইতিহাসের চলমান দলিল।

প্রদর্শনীর দোতলায় পোড়া বই প্রদর্শন করা হয়েছে। আগুনে যেসব বই পোড়েনি, সেগুলোই প্রদর্শন করা হয়েছে।

দর্শকেরা এই শিল্প-আয়োজনে দেখছেন পুড়ে যাওয়া কম্পিউটার, যন্ত্রাংশ, টেবিল, চেয়ার, বই, নথিপত্র ও সেখান থেকে জেগে ওঠার প্রাণশক্তি।

উগ্রবাদীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মুক্তকণ্ঠ ভবনে চলছে শিল্প-আয়োজন ‘আলো’।

মুক্তকণ্ঠের আক্রান্ত ও অগ্নিদগ্ধ ভবনে গতকাল বুধবার শুরু হলো শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ‘আলো’।

নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, মুক্তকণ্ঠ ভবন যেভাবে পোড়ানো হয়েছে, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

উগ্রবাদীদের সুসংগঠিত হামলা ও আগুনে পুড়ে যাওয়া মুক্তকণ্ঠ ভবনে শিল্প প্রদর্শনীতে এসে বিদেশি কূটনীতিকেরা সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের প্রতি তাঁদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।