যুদ্ধ শুরু হলে চীন কি ইরানকে রক্ষা করবে
গত বছরের শেষ দিকে ইরানের একাধিক শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। অর্থনৈতিক চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানিসংকট এবং গত জুনে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের পর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্লান্তির সমন্বয়ে মানুষ ফুঁসে ওঠে।
গত বছরের শেষ দিকে ইরানের একাধিক শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। অর্থনৈতিক চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানিসংকট এবং গত জুনে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের পর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্লান্তির সমন্বয়ে মানুষ ফুঁসে ওঠে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতি কমেছে। প্রবৃদ্ধি কমেছে, মূল্যস্ফীতি অনেক দিন ধরে উচ্চপর্যায়ে রয়েছে এবং ব্যাংক খাত খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে আছে। বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ কম, সরকারি বিনিয়োগ অনেক ক্ষেত্রে অদক্ষ ও অপচয়মুখী, সরকারি ঋণ বেড়েছে, মানুষের প্রকৃত আয় কমছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি অনেক কমে গেছে। এসব কারণে অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হয়েছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার মানে ধস সরকারের প্রতি জনগণের হতাশা তৈরি করেছে।
একসময় ‘গরিবের মাছ’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া পাঙাশ এখন আর ততটা সস্তা নয়। দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের সহজলভ্য প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল এই মাছটি। কিন্তু ধীরে ধীরে এটিও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। খামারিদের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারে মূল্যস্ফীতির কারণে প্রতিবছরই লাফিয়ে লাফ
মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল না রেখে সিগারেটকে বাস্তবে সস্তা রাখা; চার স্তর বজায় রেখে কম আয়ের মানুষের ধূমপান ছাড়ার পথ বন্ধ রাখা এবং কর না বাড়িয়ে দাম বাড়িয়ে সরকারি রাজস্বের বদলে তামাক কোম্পানির মুনাফা নিশ্চিত করা।
বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নাভিশ্বাস ওঠার দশা হয়েছে।
আইসিইউর সংকটে হামে যখন একের পর এক শিশুর মৃত্যু হচ্ছে, টিসিবির ন্যায্যমূল্যের ট্রাকের পেছনে যখন উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে জেরবার মানুষের ভিড় বাড়ছে, তখন সড়ক প্রকল্পের টাকায় ভবনবিলাসের খবর আমাদের যারপরনাই বেদনাহত করে।
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের জেরে এপ্রিলে এফএওর খাদ্য মূল্যসূচক তিন বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছে গেছে। ভোজ্যতেলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, টানা তৃতীয় মাস সূচক উর্ধ্বমুখী। দেশে এপ্রিলে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে ৮.৩৯ শতাংশে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তির আশায় এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় উল্লম্ফন। নিক্কেই ৬২ হাজার ছাড়িয়েছে, তেলের দাম নেমেও যুদ্ধপূর্বের চেয়ে ৪০% বেশি। মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে পরিবহন খরচ বাড়ছে, তার ঢেউ লাগছে নিত্যপণ্যের দামে। সামনে আরও দাম বৃদ্ধির শঙ্কা আছে। তাই এখনই খরচ নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।
শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য প্রভাব যেন বিভিন্ন সেক্টরে না পড়ে, সে জন্য সরকার সচেতন রয়েছে।
যুদ্ধবিরতিতে ইরানের বাজারে কিছুটা স্বস্তি এলেও বিক্রি যুদ্ধপূর্বের তুলনায় অনেক কম। ইন্টারনেট শাটডাউন ও মূল্যস্ফীতিতে অর্থনীতি ধ্বংসপ্রাপ্ত। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জীবিকা বিপন্ন।