
ভোটে হারলেন মমতা, রাজনীতিতে হার মানবেন কি
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটে হারলেও রাজনীতিতে হার মানবেন না।

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটে হারলেও রাজনীতিতে হার মানবেন না।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গতকাল গণনা করা হয়। ফলাফল অনুযায়ী, বিজেপি ২০৬ আসনে জয়ী। তৃণমূল জয়ী ৮১ আসনে।

সমকালীন ভারতে আর কোনো রাজ্যের নির্বাচন এতটা উত্তেজক ছিল না—এবার ২০২৬ সালে যা হলো। পশ্চিমবঙ্গের কোনো নির্বাচনও বাংলাদেশে এত মনোযোগ কাড়েনি অতীতে। এতসব আকর্ষণের কারণ, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ বিজয়কে মর্যাদার লড়াই বানিয়ে ফেলেছিল।

আগামী ৫ বছর পশ্চিমবঙ্গ শাসন করার স্বপ্ন এখন মমতার কাছে দুঃস্বপ্ন।

বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন হলেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী করুণানিধির ছেলে। করুণানিধি ছিলেন তামিল সিনেমাজগতের নামকরা স্ক্রিপ্টরাইটার। তিনি পাঁচবার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। জয়ললিতা ছিলেন ২৫ বছর। রামচন্দ্র ছিলেন ১০ বছর। এ রকম হিসাব থেকেই স্পষ্ট, তামিলনাড়ুর নির্বাচনী রাজনীতি কীভাবে সেখানকার সিনেমা তারকাদের দখলে। থালাপতি পুরোনো সেই ঐতিহ্যে কেবল নিজেকে যুক্ত করতে চাইছেন। সেই সুযোগে বিজেপি চাইছে তাদের জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রতিপক্ষের ধরাশায়ী।

পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

মমতা এখনো জয় নিয়ে আশাবাদের কথা জানান। মন খারাপ না করে কর্মীদের লড়াই করতে আহ্বান জানান। অন্যদিকে রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এটিকে বাংলার মানুষের গণতন্ত্রের জয় বলে অভিহিত করেন।

বিজেপির জয় হোক বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের—উভয় সম্ভাবনাই ভারতের জাতীয় ও প্রাদেশিক রাজনীতির দশকের পর দশক ধরে চলা উদ্বেগ ও উত্তেজনাকে নতুন করে উসকে দিচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল সোমবার। জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল ও বিজেপি।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল দুই শ আসনে জয় পাবে বলে দাবি করেছেন মমতা।

এপ্রিল মাসে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়া ভারতের চারটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গই সবচেয়ে জনবহুল। এই রাজ্যের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে ৪ মে। এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতের কেন্দ্রে আসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মধ্যে।