হরমুজে জাহাজ পারাপার নিয়ে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় ইউরোপের দেশগুলো
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।
সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প ইরান নিয়ে ধৈর্য হারানোর কথা বলেছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে দুই নেতা একমত। এদিকে প্রণালিতে জাহাজ আক্রমণের ঘটনায় উত্তেজনা বাড়ছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলেছেন। ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব নিষ্পত্তি হয়েছে। অবরোধ তুললে তারা প্রণালি খুলে দেবে বলে জানিয়েছে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
চলমান উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরান অসম রণকৌশলে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলেছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করে তেলের দাম বাড়িয়ে ট্রাম্পের বিপদ বাড়িয়েছে। টিকে থেকে রণকৌশলগত জয়ের এই উদাহরণ বিশ্বকে শেখাচ্ছে নতুন যুদ্ধের কৌশল।
হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। ইরান জাহাজে হামলার হুমকি দিলে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে সরবরাহ কমে যাওয়া, যুদ্ধ-পরবর্তী ভাসমান মজুত শেষ হওয়া, এশিয়ায় শোধনাগার উৎপাদন হ্রাস—এসব কারণে বিপর্যয়ের শঙ্কা আছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ফলে ইরানের আর্থিক ক্ষতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কোনো নীতিগত অবস্থান বলার সুযোগ নেই।
হরমুজ প্রণালি শুধু জ্বালানি সরবরাহের পথ হিসেবেই নয়, বরং সাবমেরিন কেব্লের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডরও।
শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে স্বীকার করতেই হচ্ছে হরমুজ প্রণালি শুধু একটি সামুদ্রিক পথ নয়, এটি ইরানের অস্তিত্ব ও কৌশলের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ইসরায়েল-লেবাননের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
ইরান হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দেওয়ায় ও যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার কারণে বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।