
বিশাল বাজেট, রাজস্ব ঘাটতি ও লক্ষ্য অর্জনের পরীক্ষা
বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছেন।

বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছেন।

মার্চ–এপ্রিলে প্রতি মাসে গড়ে ৭১ হাজার ৭১২ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। এক মাসে এত শুল্ক–কর কখনোই আদায় হয়নি।

জুলাই–ফেব্রুয়ারি সময়ে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮০২ কোটি টাকার শুল্ক–কর আদায়ের লক্ষ্য ছিল এনবিআরের। এ সময়ে আদায় হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে বাস্তবায়নযোগ্য বলে মনে করলেও রাজস্ব আহরণ, ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থাপনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঠামোগত সংস্কারের ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে এফবিসিসিআই।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত ঘাটতি বাজেটের সমালোচনা করেছে।

খেলাফত মজলিস প্রস্তাবিত ঋণনির্ভর বাজেটকে উচ্চাভিলাষী আখ্যা দিয়েছে। ঘাটতি পূরণে ঋণ নিতে হবে মন্তব্য করে তারা বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিকও স্বীকার করেছে।

কয়েক বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের ধীরগতি, রাজস্ব ঘাটতি এবং ব্যাংকিং খাতের নানা চ্যালেঞ্জ অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

বাজেট কী, কীভাবে বুঝব

অর্থমন্ত্রী ১১টি কারণে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার তথ্য সংসদে তুলে ধরেছেন, যার মধ্যে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, বিনিয়োগ কম উল্লেখযোগ্য।

টাকা ছাপিয়ে ঋণ: মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা

নতুন সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যয় বাড়ালেও রাজস্ব আয়ের অনিশ্চয়তায় ঘাটতি মেটাতে বাড়তি ঋণের উপর নির্ভরশীল হচ্ছে। আগামী বাজেটের আকার ৯ লাখ কোটি টাকার বেশি হতে পারে, ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের কাছাকাছি। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমন্বয় কাউন্সিলের বৈঠকে এসব লক্ষ্যমাত্রা ঠিক হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় গতকাল শনিবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে দেশের অর্থনীতিবিদরা প্রাক্-বাজেট আলোচনায় অংশ নেন। তারা আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট কম ব্যয়ে ও রক্ষণশীলভাবে তৈরি করার পরামর্শ দেন। রাজস্ব ঘাটতি, বৈশ্বিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় সতর্কতার আহ্বান জানান।