চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় সর্বোচ্চ দুটি বিষয়ে (চতুর্থ বিষয় বাদে) অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূরক বা ‘সাপ্লিমেন্টারি’ পরীক্ষার ফরম পূরণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান। তবে এই প্রক্রিয়ার মাঝেই অভিযোগ উঠেছে যে, ফরম পূরণের নামে অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি-র চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের এই হয়রানির বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। কমিটি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, পরীক্ষার ফরম পূরণের অযুহাতে কোনো পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করা যাবে না। এই নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গত ৫ নভেম্বর জারি করা একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশে এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে এই বিশেষ ‘সাপ্লিমেন্টারি’ পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। এই পরীক্ষায় নিয়মিত এবং অনিয়মিত—উভয় ধরনের পরীক্ষার্থীরাই অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। তবে শর্ত হলো, সর্বোচ্চ দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীরাই কেবল এই সুযোগ পাবেন।

পরীক্ষার ফরম পূরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৫ নভেম্বর থেকে, যা চলবে আগামী ৯ নভেম্বর পর্যন্ত। নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার শেষ সময় ১০ নভেম্বর। ফি-র হার নির্ধারণ করে জানানো হয়েছে যে, তত্ত্বীয় প্রতিটি পত্র বা বিষয়ের জন্য ১২৫ টাকা এবং ব্যবহারিক প্রতিটি পত্র বা বিষয়ের জন্য ২৫ টাকা ফি দিতে হবে। এছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্র ফি হিসেবে ৪৫০ টাকা নির্ধারিত করা হয়েছে।

সাধারণত এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে তাকে পরবর্তী এক বছর অপেক্ষা করতে হয় এবং পরের বছরের পরীক্ষায় পুনরায় বসতে হয়। সেই ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী চাইলে শুধু অকৃতকার্য হওয়া বিষয়গুলোতে অথবা সব বিষয়েই পরীক্ষা দিতে পারে। তবে মাত্র একটি বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা করতে হতো, যা অনেকের জন্য কষ্টকর ছিল।

শিক্ষার্থীদের এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার শিক্ষা বিভাগ এক মাসের মধ্যেই সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ৩১ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। এবারের ফলাফলে এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীর মোট সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন। এর মধ্যে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন পরীক্ষার্থী।