গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান অস্থিরতার নেপথ্যে পলাতক অপশক্তির কারসাজি রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি জানান, সরকার ইতিমধ্যে এই অপশক্তিগুলোকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, কিছু গণমাধ্যম প্রকৃত সত্য প্রকাশ না করে পোশাক খাতের অস্থিরতাকে শ্রমিক আন্দোলন হিসেবে উপস্থাপন করছে, যার উদ্দেশ্য হলো পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব হলে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিএমইউজে) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মূলত সাংবাদিকদের পেশাগত ও আর্থিক কল্যাণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জীবনমান উন্নয়নের উপায় নিয়ে আলোচনার জন্য এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে মীর হেলাল উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ কোনোভাবেই ষড়যন্ত্রকারীদের অপচেষ্টা সফল হতে দেবে না।” দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গণমাধ্যমের যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তিনি তার কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়া হলে পুরো দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোও ক্ষতির মুখে পড়বে।

সভায় বিশেষ অতিথির capacity-তে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রধান সম্পাদক ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির জামাল।

কাদের গনি চৌধুরী তার বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “মানুষ দাসত্বের সাংবাদিকতাকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করে।” তার মতে, এই ধরনের সাংবাদিকতার কারণেই ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশে এত বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যম থাকা সত্ত্বেও আয়নাঘরের খবর জানতে হয়েছে বিদেশি গণমাধ্যমের মাধ্যমে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “১৭ বছর ধরে দাসত্বের সাংবাদিকতা করেছেন, এমন অনেকে এখন লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়েছেন এবং প্রকাশ্যে আসতে লজ্জা পাচ্ছেন।”

সাংবাদিকদের যেন আর এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। বর্তমানে অপসাংবাদিকদের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি সরকারের উদ্যোগে প্রকৃত সাংবাদিকদের একটি তালিকা তৈরির প্রস্তাব দেন, যাতে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব হয়।

অন্যদিকে, মোহাম্মদ আবদুল বাছির জামাল জানান, সাংবাদিকদের কল্যাণে উল্লেখযোগ্য প্রকল্প ও পরিকল্পনার প্রায় সবই বিএনপি সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, আগে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সহযোগিতার বড় অংশ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অনুসারী সাংবাদিকরাই পেতেন, তবে বর্তমানে সেই প্রবণতা দূর করা হয়েছে। বর্তমান সরকার পেশাদার ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, ৬৫ বছরের বেশি বয়সি অসচ্ছল সাংবাদিকদের জন্য মাসিক ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদান ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অসুস্থ সাংবাদিকদের চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবানের ২০ জন অসচ্ছল ও অসুস্থ সাংবাদিকের মাঝে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সহযোগিতার চেক বিতরণ করা হয়।