গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স ও বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানির মেরিন (কার্গো) বিমা বিক্রিতে স্থগিতাদেশ জারি করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। মেরিন ট্যারিফ হার লঙ্ঘনের দায়ে কোম্পানি দুটিকে আগামী তিন মাসের জন্য এ নির্দেশ দেওয়া হয়। মেরিন কার্গো বিমাকে বলা হয় সামুদ্রিক পণ্য পরিবহন বিমা।

স্থগিত করার পাশাপাশি মেরিন (কার্গো) উপশ্রেণির নিবন্ধন কেন স্থগিত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কোম্পানি দুটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সংস্থাটি।

আজ বৃহস্পতিবার আইডিআরএর পরিচালক (রেটিং, অডিট ও জরিপ) মো. মিজানুর রহমানের স্বাক্ষরিত আলাদা দুই চিঠি গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স ও বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পাঠানো হয়। চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, সাধারণ বীমা করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে।

আইডিআরএ গ্রিন ডেল্টাকে বলেছে, সংস্থাটির পরিদর্শন দল গ্রিন ডেল্টার প্রধান কার্যালয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখতে পেয়েছে, বিমা পলিসি ইস্যুর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত মেরিন ট্যারিফ (কার্গো) হার উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে বিভিন্ন হারে রেটে প্রিমিয়াম নিয়েছে। আইডিআরএর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘বিমা আইন ২০১০’-এর ৬০ ধারা এবং আইডিআরএর জারি করা ২০২১ সালের ৮৩ প্রজ্ঞাপনের লঙ্ঘন।

আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে, মেরিন কার্গোর বিদ্যমান ট্যারিফ হার দশমিক ৪৫ ও দশমিক ৩০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠান দুটি এ হার থেকে গ্রাহকদের ছাড় দেয়। অথচ বিমা আইনের ৬০ ধারায় বলা হয়েছে, বিমা পলিসি বিক্রি, নবায়ন বা চালু রাখার জন্য গ্রাহককে নির্ধারিত কমিশন বা প্রিমিয়ামের অংশবিশেষ ছাড় দেওয়া যাবে না। ২০২৫ সালে মেরিন বিমা থেকে দেশের নন লাইফ কোম্পানিগুলোর মোট প্রিমিয়াম আয় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

একইভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানিকেও। আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে বিমা আইন ২০১০–এর ধারা ১০(২) মোতাবেক তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠান দুটির মেরিন (কার্গো) উপশ্রেণির সব ধরনের বিমা ব্যবসা তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ধারা ১০(১) অনুযায়ী তাদের এই উপশ্রেণির নিবন্ধন কেন চূড়ান্তভাবে স্থগিত করা হবে না, আইডিআরএর কাছে তার লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে।

প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে জানতে গ্রিন ডেল্টার মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা চৌধুরীকে ফোনে না পেয়ে খুদে বার্তা দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।

বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাইফুদ্দিন চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘৫০ শতাংশ ব্যবসায়ের জন্য আমরা বিদেশের বাজারে গিয়েছি। এতে আয় হয়েছে আমাদের। আবার গ্রাহকদের জন্যও ভালো হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির আগে আইডিআরএ আমাদের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে পারত। তা সংস্থাটি করেনি।’