যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুই কক্ষের মধ্যবর্তী নির্বাচনে একের পর এক বড় সাফল্যের পর আলোচনায় এসেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির সমাজতন্ত্রপন্থীরা। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে তাঁদের উল্লেখযোগ্য জয়লাভের ফলে এখন একটি নতুন দল কংগ্রেসে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

চলতি বছরের প্রধান নির্বাচনগুলোতে ‘ডেমোক্রেটিক সোশালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ)’–এর সদস্য খুব অল্প কয়েকজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যারা নিজেদের ডেমোক্রেটিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। গত বছর নিউইয়র্ক নগরের মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানির জয় ডিএসএর উত্থানকে ত্বরান্বিত করে। এরপর এই বছর তাঁরা কংগ্রেসের দলীয় প্রাথমিক বাছাই বা প্রাইমারি নির্বাচনে একের পর এক জয়লাভ করেন।

সমাজতন্ত্রীদের অধিকাংশ জয় এসেছে ডেমোক্র্যাটদের নিরাপদ আসনগুলো থেকে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রাইমারি লড়াইয়ে প্রার্থীরা মূলধারার ডেমোক্র্যাটদের পরাজিত করতে সক্ষম হন। তবে সাধারণ নির্বাচনে বামপন্থীদের এই প্রার্থীরা কেমন ফল করবেন, তা নিয়ে ছিল বড় পরীক্ষা।

ডিএসএর জন্য মঙ্গলবার রাতটি ছিল ঐতিহাসিক। সংগঠনের সদস্য অথবা তাঁদের সমর্থিত আটজন প্রার্থী নিজেদের নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন প্রার্থী ২০২৪ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধানের চেয়ে অনেক বেশি ভালো ফল করেছেন।

বর্তমানে কংগ্রেসে ডিএসএর মাত্র দুই সদস্য রয়েছেন। মিশিগানের কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব এবং নিউইয়র্কের আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও–কোর্তেজ পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর ফলে আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেস অধিবেশন শুরুর সময় ডিএসএ সদস্যদের সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি হবে। ক্যাপিটল হিলে ডিএসএ আইনপ্রণেতাদের এই সংখ্যাবৃদ্ধি এই জোটের প্রভাব বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

সিরাকিউস ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক গ্রান্ট ডেভিস রিহার নিউজউইককে বলেন, “একটি বিষয় ইতিমধ্যেই পরিষ্কার, এটি ২০২৬ সালের জন্য একটি বড় বিষয় হবে।” রিহার আরও যোগ করেন, “জাতীয় কৌশল নির্ধারণের জন্য দলের ওই অংশকে আলোচনার টেবিলে একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন দিতে হবে। আবার প্রেসিডেন্ট পদের প্রাইমারি ব্যবস্থার কারণে এই ভোটাররা প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় বড় ভূমিকা রাখবেন।”

নিউইয়র্কে সমাজতন্ত্রী ডেমোক্র্যাটদের সরাসরি সমর্থন দিয়েছেন নগরের মেয়র জোহরান মামদানি। দলীয় প্রাথমিক বাছাই থেকে শুরু করে চূড়ান্ত নির্বাচন পর্যন্ত তিনি তাঁর সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে সক্রিয় ছিলেন।

নিউইয়র্কের সপ্তম কংগ্রেস আসন থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ক্লেয়ার ভালদেজ জয়লাভ করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সদস্য নিদিয়া ভেলাজকুয়েজের আসনে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত লড়াইয়ে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মেলভিন রিভেরাকে পরাজিত করেন তিনি। ভেলাজকুয়েজ ২০১৩ সাল থেকে এই আসনে নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন এবং ১৯৯৩ সালে প্রথমবার কংগ্রেস সদস্য হন। এবার তিনি অবসরে যাচ্ছেন।

এই এলাকায় ডেমোক্র্যাটদের শক্তিশালী সমর্থকগোষ্ঠী থাকায় ভালদেজ জয়ের দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন। তাঁর এই সাফল্য ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ‘ডেমোক্রেটিক সোশালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ)’–এর জন্য আরেকটি লক্ষণীয় জয় বয়ে আনল। গত জুনে অনুষ্ঠিত দলীয় প্রাথমিক বাছাই নির্বাচনে নিউইয়র্কের সপ্তম ডিস্ট্রিক্টকে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

সেই নির্বাচনে ভালদেজকে আরও বেশ কয়েকজন শক্তিশালী প্রার্থীর সঙ্গে লড়তে হয়েছিল, যাঁদের মধ্যে ব্রুকলিন বরোর প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও রেনোসো অন্যতম ছিলেন। ভালদেজ ডিএসএ ও নিউইয়র্ক নগরের মেয়র জোহরান মামদানির (যিনি নিজেকে সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন) সমর্থন পেয়েছিলেন। অন্যদিকে রেনোসো বিদায়ী কংগ্রেস সদস্য ভেলাজকুয়েজসহ বেশ কিছু প্রবীণ ও মূলধারার ডেমোক্র্যাট নেতার সমর্থন পেয়েছিলেন।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক সংখ্যালুঘ নেতা হাকিম জেফ্রিজ এই নির্বাচনে কাউকেই সমর্থন দেননি, তবে তিনি দলের ভেতরের বিভাজন স্বীকার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসসহ নিউইয়র্কের আরও অনেক ডেমোক্র্যাট ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ডিএসএর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। জেফ্রিজ জুনে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “নিদিয়া ভেলাজকুয়েজ, টিশ জেমসসহ অত্যন্ত প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের একটি জোট... ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ পার্টি ও বেশ কয়েকটি শ্রমিক ইউনিয়নকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে এক পাশে রয়েছে, আর অন্য পাশে রয়েছে ডিএসএ।”

ভালদেজ তাঁর প্রাইমারি প্রচারের মূলে রেখেছিলেন আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) বিলুপ্ত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ‘গ্রিন নিউ ডিল’–এর মতো পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি। এছাড়া তিনি সর্বজনীন ভাড়া নিয়ন্ত্রণ (ইউনিভার্সাল রেন্ট কন্ট্রোল) ও সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবার সমর্থক। এই রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে গত জানুয়ারিতে তিনি ডিএসএর সমর্থন লাভ করেন।

ডেমোক্রেটিক পার্টি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই সমর্থনের মাধ্যমে ভালদেজের প্রচার চালানোর দায়িত্ব নেয় সেই একই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী, যারা ২০২৫ সালে মেয়র জোহরান মামদানিকে বিজয়ী করেছিল। প্রতিনিধি পরিষদের এনওয়াই–৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী একমাত্র প্রার্থী হিসেবে ভালদেজ আবাসন নির্মাণ খাতের কোনো অর্থ গ্রহণ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ডেমোক্রেটিক পার্টির কৌশলবিদ ম্যালি স্মিথ ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেছেন, “যেহেতু এলাকাটিতে ডেমোক্র্যাটদের প্রাধান্য রয়েছে, তাই তাঁর এই জয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই।” স্মিথ আরও যোগ করেন, “আমাদের দলটি বিশাল ও বৈচিত্র্যময়। এর অর্থ হলো, সুদূর বামপন্থার কিছু মানুষও জয়ী হবেন। তবে প্রতিযোগিতাপূর্ণ লাল (রিপাবলিকান) বা দোদুল্যমান রাজ্যগুলোয় (যেখানে ফল যেকোনো দিকে যেতে পারে) আমাদের জয়ী হতে হলে রয় কুপার ও জেমস তালারিকোর মতো প্রার্থীদের মনোনীত করা উচিত।”

নিউইয়র্কের একমাত্র ডিএসএ–সমর্থিত প্রার্থী কেবল ভালদেজ নন। প্রায় একই ধরনের এক প্রাইমারি নির্বাচনে ডিএসএর আরেক প্রার্থী দারিয়ালিজা অ্যাভিলা শেভালিয়ার ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ নেতা ও কংগ্রেসের হিস্প্যানিক ককাসের প্রধান আদ্রিয়ানো এস্পাইলাতকে হারিয়ে দিয়েছেন। শেভালিয়ার নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেস আসন নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। ৯২ শতাংশ ভোট গণনার পর তিনি পেয়েছেন ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট, আর রিপাবলিকান জোমো এম উইলিয়ামস পেয়েছেন ১১ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট।

এই ৭০ শতাংশের ভোটের ব্যবধান বেশ বড়। প্রাইমারিতে হেরে যাওয়া পাঁচবারের প্রতিনিধি আদ্রিয়ানো এস্পাইলাত ২০২৪ সালে এই আসনে ৬৬ শতাংশের ব্যবধানে জিতেছিলেন, যার চেয়ে শেভালিয়ারের জয়ের ব্যবধান বেশি। শেভালিয়ার রাজনীতিতে নতুন। তিনি একসময় কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করাকে তাঁর প্রচারের প্রধান বিষয় বানিয়েছিলেন।

মিশিগান অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ১৩তম আসনে জয়ী হয়েছেন ম্যাককিনি। ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে খরচের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে থেকেও তিনি প্রতিনিধি শ্রী রানেদারকে পরাজিত করেন। বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, গতকাল বুধবার গভীর রাত সাড়ে তিনটার দিকে ম্যাককিনিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ৬৪ শতাংশ ভোট গণনার পর ম্যাককিনি পেয়েছেন ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট এবং রিপাবলিকান টি পি নিকোরিয়াক পেয়েছেন ২০ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। বর্তমানে ম্যাককিনির জয়ের ব্যবধান ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ। উল্লেখ্য, রানেদার ২০২৪ সালে ৪৪ দশমিক ১ শতাংশের ব্যবধানে এই আসন জিতেছিলেন।

আইনজীবী থেকে ডক্টরেটের শিক্ষার্থী হওয়া মেলাট কিরোস কলোরাডোর প্রথম কংগ্রেস আসনে রিপাবলিকান ক্রিস্টি পিটারসনকে পরাজিত করেছেন। গতকাল ভোরে ৬৯ শতাংশ ভোট গণনার পর কিরোস পেয়েছেন ৭৮ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট এবং পিটারসন পেয়েছেন ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট। ফলে জয়ের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ডায়ানা ডিগেট টানা ৩০ বছর ধরে এই আসনে ছিলেন, যাঁকে চমকপ্রদ প্রাইমারিতে হারিয়ে দেন কিরোস। ডিগেট ২০২৪ সালে ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে এই আসনে জিতেছিলেন।

পেনসিলভানিয়ার রাজ্যের আইনসভার সদস্য ক্রিস র‍্যাব পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাটদের শক্তিশালী তৃতীয় কংগ্রেসনাল আসনে সহজে জয়ী হয়েছেন। ৯৭ শতাংশ ভোট গণনা শেষে র‍্যাব পেয়েছেন ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ডেনিস মাহোনি পেয়েছেন ৬ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। তবে ২০২৪ সালের ফলাফলের সঙ্গে এর তুলনা করা কঠিন, কারণ অবসরে যাওয়া ডেমোক্রেট প্রতিনিধি ডোয়াইট ইভানসের বিরুদ্ধে সেবার কোনো বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। ইভানস সেই বছর ৯৯ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতেছিলেন।

কংগ্রেসে আগে থেকেই থাকা ডেমোক্রেটিক সমাজতন্ত্রী রাশিদা তালিব মিশিগানের ১২তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুনরায় জয় নিশ্চিত করেছেন। ৯২ শতাংশ ভোট গণনার পর রাশিদা পেয়েছেন ৭৫ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট এবং রিপাবলিকান জেমস হুপার পেয়েছেন ২১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। তাঁর জয়ের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের ৪৪ দশমিক ৩ শতাংশের চেয়ে বেশি।

দেশের অন্যতম প্রধান ডেমোক্রেটিক সমাজতন্ত্রী আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও–কোর্তেজ নিউইয়র্কের ১৪তম কংগ্রেস আসন থেকে মঙ্গলবার সহজেই পঞ্চম মেয়াদে জয়ী হয়েছেন। প্রায় ৯৬ শতাংশ ভোট গণনার পর ওকাসিও–কোর্তেজ পেয়েছেন ৭৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোট এবং রিপাবলিকান ডায়ামান্ট হিসেনাজ পেয়েছেন ২১ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। জয়ের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ। ওকাসিও–কোর্তেজকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ভাবা হচ্ছে। ২০২৪ সালে তিনি রিপাবলিকান টিনা ফোর্টকে ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশের ব্যবধানে হারিয়েছিলেন, এবার তাঁর ফল আরও ভালো হয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার ৩৪তম কংগ্রেস আসন থেকে পাঁচবারের ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি জিমি গোমেজের বিরুদ্ধে গঞ্জালেস–তোরেসের লড়াইটি ছিল অত্যন্ত কঠিন। গতকাল ভোরে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি, তবে ৭২ শতাংশ ভোট গণনার পর গঞ্জালেস–তোরেস ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ ভোট নিয়ে গোমেজের চেয়ে এগিয়ে গেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী গোমেজ পেয়েছেন ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। এই আসনের ২০২৪ সালের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করা জটিল, কারণ ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা নতুন হাউস ম্যাপ অনুমোদন করায় সীমানা বদলে গেছে। গোমেজ ২০২৪ সালে সহকর্মী ডেমোক্রেট ডেভিড কিমকে প্রায় ১১ দশমিক ২ শতাংশের ব্যবধানে হারিয়েছিলেন।

ফ্লোরিডায় ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর খালি হয়ে যাওয়া সিনেট আসনের বিশেষ নির্বাচনে রিপাবলিকান সিনেটর অ্যাশলে মুডি ডেমোক্রেটিক সমাজতন্ত্রী অ্যাঞ্জি নিক্সনকে হারিয়েছেন। তবে জয়ের ব্যবধান ছিল খুবই কম। রুবিওর ২০২২ সালে জয়ী হওয়া মেয়াদের শেষ দুই বছর পূর্ণ করতে মুডি জিতেছেন। তাঁর এই সামান্য ব্যবধানের জয় ডেমোক্র্যাটদের উৎসাহিত করছে, কারণ ফ্লোরিডা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালে ফ্লোরিডায় ১৩ শতাংশের ব্যবধানে জিতেছিলেন এবং ২০১২ সালের পর থেকে সেখানে কোনো ডেমোক্রেট সিনেট নির্বাচনে জিততে পারেননি। ৯৯ শতাংশ ভোট গণনার পর মুডি পেয়েছেন ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট এবং নিক্সন পেয়েছেন ৪৮ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ জয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ২ দশমিক ৯ শতাংশ।

ডেমোক্রেটিক সমাজতন্ত্রীদের এই ধারাবাহিক জয় দেশ ও বিশ্বজুড়ে ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।