২০২৬ সালের জুন মাস। ফ্রান্সের জনপ্রিয় মিউজিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ডিজার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন প্ল্যাটফর্মে যে পরিমাণ নতুন গান আপলোড করা হচ্ছে, তার অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ প্রায় ৯০ হাজার গান সম্পূর্ণভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর মাধ্যমে তৈরি। প্রশ্ন উঠতে পারে, যন্ত্র কি সত্যিই গান তৈরি করতে পারে? বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এর উত্তর হলো— হ্যাঁ।
একটি বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝা যাক। রাত নয়টায় কলেজছাত্র শাকিল (ছদ্মনাম) একটা মিষ্টি গান শুনে মুগ্ধ হয়ে শিল্পীর নাম খুঁজতে লাগলেন। পরে জানলেন, এই নামের কোনো শিল্পী নেই। এই পুরো বিষয়টি সম্ভব হয়েছে জেনারেটিভ এআই বা লেখা থেকে গান তৈরির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে। এখন কেবল একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা বা প্রম্পট দিলেই কয়েক মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণ গান তৈরি হয়ে যায়। এতে সুর এবং কণ্ঠস্বর— সব কিছুই যেকোনো জনরার হতে পারে। অথচ মাত্র কয়েক বছর আগেও এমনটা কল্পনা করা ছিল প্রায় অসম্ভব!
তবে এই প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে কিছু গুরুতর ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। ডিজারের দাবি অনুযায়ী, এআই-নির্মিত গানের প্রায় ৮৫ শতাংশ স্ট্রিম মূলত প্রতারণামূলক। সহজ কথায়, বিভিন্ন বটের মাধ্যমে গানের শোনার সংখ্যা কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে রয়্যালটির টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত ও পরিশ্রমী শিল্পীদের প্রাপ্য আয়ের ভাগ কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং আসল শিল্পীদের অধিকার নিশ্চিত করতে অনেক প্ল্যাটফর্ম এখন এআই-নির্মিত গানে বিশেষ ট্যাগ ব্যবহার করছে। কেউ কেউ এই গানগুলোকে সুপারিশের তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে, আবার কিছু প্ল্যাটফর্ম এআই গান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে।
এই ডিজিটাল যুগে একজন শ্রোতা হিসেবে আপনি যা করতে পারেন—
১. গানের ট্যাগ বা লেবেলগুলো সতর্কতার সাথে খেয়াল করুন এবং কোনো অচেনা শিল্পীর গান শোনার আগে তাঁর সম্পর্কে একটু খোঁজ নিন।
২. আপনার প্রিয় শিল্পীদের সরাসরি সমর্থন জানান। যেমন— তাঁদের অফিশিয়াল চ্যানেলে গান শোনা অথবা সরাসরি কনসার্টে অংশগ্রহণ করা।
৩. যদি কেউ গান তৈরিতে এআই-এর সাহায্য নেন, তবে তা যেন খোলাখুলিভাবে জানানো হয়, সেই দাবির পক্ষে কথা বলুন।
— লেখক: টেক ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর