আজ ৫ নভেম্বর, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব সুনামি সচেতনতা দিবস। এই বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং এর মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই প্রতি বছর এই দিবসটি পালন করা হয়।

প্রকৃতিতে সুনামি এক চরম ভয়াবহ দুর্যোগ হিসেবে পরিচিত। সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত কিংবা ভূমিধসের ফলে সুনামির সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে সমুদ্রে বিশাল ও শক্তিশালী ঢেউ তৈরি হয়, যা যখন উপকূলীয় এলাকায় আছড়ে পড়ে, তখন ব্যাপক প্রাণহানি এবং সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

জাপানের বিশেষ উদ্যোগে এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মাধ্যমে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৫ নভেম্বরকে বিশ্ব সুনামি সচেতনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। দেশটির একটি ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি বহন করেই এই দিনটি নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সুনামির কারণে চরম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বরে ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট সুনামি ছিল অন্যতম ভয়াবহ। ওই দুর্যোগে ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলে। সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ে প্রাণ হারান প্রায় দুই লাখেরও বেশি মানুষ।

সুনামির কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে আগাম সতর্কবার্তা প্রদান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে যারা উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করেন, তাদের সুনামির সম্ভাব্য লক্ষণগুলো চেনা এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।

বিশ্ব সুনামি সচেতনতা দিবস উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান, বিশেষ প্রশিক্ষণ, মহড়া এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী এবং উপকূলীয় বাসিন্দাদের যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় মানসিকভাবে ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত করা।

বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য সুনামির ঝুঁকি মোকাবিলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। যদিও বাংলাদেশে সুনামির ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল, তবুও ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের সচেতনতা বাড়ানো আবশ্যক। পাশাপাশি কার্যকর আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, উদ্ধার কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে হবে।

সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি ঠেকানো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে বিজ্ঞানভিত্তিক সঠিক পূর্বাভাস, দ্রুত আগাম সতর্কতা এবং যথাযথ প্রস্তুতির মাধ্যমে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই কেবল একটি নির্দিষ্ট দিনে সীমাবদ্ধ না থেকে, সারা বছরই সুনামি মোকাবিলায় সচেতন ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।