বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত মিসরের আল–আজহার বিশ্ববিদ্যালয়। ফাতেমি খিলাফতের শাসনামলে ৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে পবিত্র কোরআন এবং ইসলামি আইন শিক্ষার উদ্দেশ্যে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে এর পরিধি বিস্তৃত হয়েছে এবং বর্তমানে এর পাঠ্যক্রমে সেক্যুলার বা জাগতিক বিষয়াদিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

১৯৬১ সালে তৎকালীন মিসরের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদেল নাসের আল–আজহারকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করেন। এরপর থেকেই এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, ফার্মেসি, মেডিসিন, প্রকৌশল এবং কৃষির মতো বিভিন্ন আধুনিক বিষয় পড়ানো শুরু হয়। মিসরের মূল ক্যাম্পাসের বাইরে ফিলিস্তিনের গাজা এবং কাতারের দোহায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা রয়েছে।

বর্তমানে আল–আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ হাজার ২০০টি শ্রেণিকক্ষে ৩০ হাজারেরও বেশি শিক্ষক পাঠদান করছেন, যাদের তত্ত্বাবধানে পাঁচ লাখের বেশি শিক্ষার্থী শিক্ষালাভ করছেন। মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০ শতাংশই বিদেশি, যারা বিশ্বের শতাধিক দেশ থেকে এখানে পড়তে এসেছেন। শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের মোট জনবল প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার। এছাড়া আল-আজহারের অধীনে মিসরজুড়ে প্রায় চার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে, যার ফলে সামগ্রিকভাবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে দাঁড়িয়েছে।

এই ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-শরিফ ইনস্টিটিউটে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তির সুযোগ ঘোষণা করা হয়েছে। মিসর সরকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ২৪টি বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে। এর মধ্যে স্নাতক পর্যায়ে ১৮টি এবং মাস্টার্স পর্যায়ে ৬টি বৃত্তি প্রদান করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এই বৃত্তির জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছে। অনলাইনে আবেদনের প্রক্রিয়া ৩ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এবং ১৭ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। তবে অনলাইনে আবেদনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথিপত্রের হার্ড কপি ১৮ নভেম্বর বেলা সাড়ে তিনটার মধ্যে জমা দিতে হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঢাকায় অবস্থিত মিসরের দূতাবাস থেকে প্রেরিত নির্দেশনা ও গাইডলাইন অনুসরণ করে এবং শর্তসাপেক্ষে লিখিতভাবে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা নিম্নরূপ—
১. “বৃত্তির জন্য আবেদনকারী আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আরবি ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান থাকতে হবে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরবি ভাষায় দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”
২. সর্বশেষ শিক্ষাগত সনদ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত করে জমা দিতে হবে।
৩. আবেদনকারীর জন্মনিবন্ধনের মূল কপি জমা দিতে হবে। এতে আবেদনকারীর মায়ের নাম ও জাতীয়তা উল্লেখ থাকতে হবে এবং সনদটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত হতে হবে।
৪. আবেদনকারীর সাম্প্রতিক তোলা ছয় কপি ছবি।
৫. কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদ থাকা মূল পাসপোর্ট।
৬. সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।
৭. আবেদনকারীর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার বিষয় উল্লেখ করে চিকিৎসকের দেওয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেট সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত করতে হবে।
৮. পিসিআর পরীক্ষায় নেগেটিভ ফলাফলের সনদও সত্যায়িত করে জমা দিতে হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া:
আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রথমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত অনলাইন লিংকে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন করতে হবে। ৩ থেকে ১৭ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত এই সুযোগ থাকবে। আবেদনপত্র পূরণের ক্ষেত্রে মিসরের দূতাবাসের প্রকাশিত গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে।

অনলাইন আবেদনের পর আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও নম্বরপত্র, পাসপোর্টের ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্র, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, আরবি ভাষায় দক্ষতার সনদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি।

উল্লিখিত সকল কাগজপত্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের ২ নম্বর গেটসংলগ্ন অভ্যর্থনা কক্ষে নির্ধারিত বক্সে জমা দিতে হবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলবে। হার্ড কপি জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর ২০২৬ বেলা সাড়ে ৩টা। নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও আবেদন জমা দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

আবেদনের খামের ওপর প্রেরক ও প্রাপকের নাম-ঠিকানা, আইডি বা ট্র্যাকিং নম্বর এবং আবেদন করা প্রোগ্রামের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। প্রাপকের ঠিকানা হবে—উপসচিব, বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, কক্ষ নম্বর ১৭০৬, ভবন নম্বর ৬, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।

আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা হিসেবে জানানো হয়েছে যে, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরবি ভাষায় দক্ষতার সনদকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া যারা ইতিমধ্যে অন্য কোনো সরকারি বৃত্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন, তাদের এই বৃত্তির জন্য আবেদন না করার অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

*বৃত্তিসংক্রান্ত নির্দেশনা, আবেদনপ্রক্রিয়াসহ বিস্তারিত জানতে মিসরের দূতাবাসের প্রকাশিত গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে।