মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা চেলোনোর অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ১৯ নভেম্বর। গতকাল মঙ্গলবার আইসিজে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্যটি জানিয়েছে।

২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া রোহিঙ্গাদের ওপর পদ্ধতিগতভাবে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেছিল। আইসিজে থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৯ নভেম্বর গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৮টায় বিচারকগণ তাদের রায় পাঠ করা শুরু করবেন।

এই রায়ের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এর প্রভাব ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা অন্যান্য মামলার ওপরও পড়তে পারে। বিশেষ করে, ২০২৩ সালে গাজায় গণহত্যার অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার ক্ষেত্রে এই রায়ের প্রভাব লক্ষ্য করা যেতে পারে। উল্লেখ্য, ইসরায়েল গাজায় গণহত্যার অভিযোগটি অস্বীকার করেছে।

মামলার বিবরণীতে গাম্বিয়া অভিযোগ করেছে যে, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চালানো অভিযানটি ছিল মূলত গণহত্যার শামিল। ওই ভয়াবহ অভিযানের পর প্রাণ বাঁচাতে অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ওই অভিযানের সময়কার হত্যাযজ্ঞ, ব্যাপক ধর্ষণ এবং ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতো নৃশংস ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধান কমিশন তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, ওই অভিযানে ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ সংঘটিত হয়েছিল।

অন্যদিকে, মিয়ানমার সরকার গণহত্যার এই গুরুতর অভিযোগগুলো বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে। দেশটির দাবি, সন্ত্রাসবাদ দমনে তারা বৈধভাবে ওই সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক দশকেরও বেশি সময় পর এই রায় হতে যাচ্ছে। আদালতের দীর্ঘ ইতিহাসে এই ধরনের মামলায় এটি হবে তৃতীয় রায়।