লালমনিরহাট সদরের সাপটানা এলাকায় অবস্থিত ‘নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে’ সিজারিয়ান অপারেশনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর আদরী বেগম (৩৫) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে জেলা সিভিল সার্জনের বিশেষ নির্দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

মৃত আদরী বেগম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের মহিষাসুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি তিন সন্তানের জননী ছিলেন। সর্বশেষ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন।

আহত প্রসূতির স্বজনদের দেওয়া তথ্যানুসারে, গত শনিবার প্রসবব্যথা শুরু হলে আদরী বেগমকে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর অথবা অন্য কোনো হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ‘বিজলী’ নামের এক নারীর পরামর্শে তাকে শহরের ‘নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে’ ভর্তি করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে যে, ৩৫ হাজার টাকায় চুক্তি করে তার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করা হয়। তবে অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর যখন তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হয় এবং রক্তের প্রয়োজন পড়ে, তখন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কালক্ষেপণ করে। পরবর্তীতে সোমবার সকালে স্বজনরা যখন ক্লিনিকে পৌঁছান, তখন তারা প্রসূতির মরদেহ দেখতে পান। অভিযোগ করা হয়েছে যে, সেই সময়ে ক্লিনিকে কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া রোগীর মৃত্যু গোপন করার উদ্দেশ্যে তাকে দ্রুত রংপুরে নিয়ে যাওয়ার একটি মিথ্যা নাটক সাজানোর অভিযোগও তুলেছেন স্বজনরা। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ পলাতক রয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।

প্রসূতির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মঙ্গলবার বিকেলে লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম তাৎক্ষণিকভাবে ওই ক্লিনিকে একটি অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় ক্লিনিকের মালিকপক্ষ বা কোনো কর্মীকে সেখানে উপস্থিত পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ফোন ও বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তাতে ব্যর্থতা আসে।

যোগাযোগে ব্যর্থ হয়ে সিভিল সার্জনের নির্দেশে লালমনিরহাট সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নওশাদ আলম এবং সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলামের উপস্থিতিতে ‘নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোম’ সিলগালা করে দেওয়া হয়।

এই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম জানান, “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে ক্লিনিকটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”