টেলিযোগাযোগ খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে তরঙ্গের (স্পেকট্রাম) মূল্য সাশ্রয়ী ও যৌক্তিক করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন বৈশ্বিক ডিজিটাল অপারেটর ভিওনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, তরঙ্গের দাম যৌক্তিক হলে একদিকে যেমন মোবাইল ইন্টারনেটের সেবার মান উন্নত হবে, তেমনি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির গতিও ত্বরান্বিত হবে। তাই তরঙ্গকে কেবল সরকারের রাজস্ব আয়ের উৎস হিসেবে না দেখে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ভিওন বোর্ড প্রেস মিট শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ভিওনের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং এই উপলক্ষেই প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বাংলালিংক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। বোর্ড সভার সমাপ্তির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভিওন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বোর্ড সদস্য কান তেরজিওগ্লো বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, কাজাখস্তান ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে এবং সেখানে তরঙ্গ ব্যবহারের খরচ অত্যন্ত সামান্য। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে এই তরঙ্গ বিনা মূল্যে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, তরঙ্গের ব্যবহারের মাধ্যমে যে অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি হয়, তার চূড়ান্ত সুবিধাভোগী হলো সরকার। ফলে টেলিযোগাযোগ খাতের আয় বৃদ্ধি পেলে পরোক্ষভাবে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পায়।

কান তেরজিওগ্লো বলেন, ‘লক্ষ্য হওয়া উচিত তরঙ্গের প্রাচুর্য নিশ্চিত করা। পর্যাপ্ত তরঙ্গ কাজে লাগানো গেলে সেবার মান বাড়বে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়বে এবং ডিজিটালাইজেশনও ত্বরান্বিত হবে।’

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে বর্তমানে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের ব্যবহৃত ৯০০, ১ হাজার ৮০০ ও ২ হাজার ১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গের নবায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই তরঙ্গ ব্যবহারের বিদ্যমান লাইসেন্সগুলোর মেয়াদ আগামী ১০ নভেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে।

লাইসেন্স নবায়ন প্রসঙ্গে বাংলালিংকের সিইও ইওহান বুসে বলেন, তরঙ্গকে জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদন বাড়ানোর অন্যতম চালিকা শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তাই এর মূল্য সাশ্রয়ী হওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই খাতে বিনিয়োগের সুফল কেবল টেলিযোগাযোগ খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং অর্থনীতির অন্যান্য ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

পাকিস্তানের উদাহরণ টেনে ইওহান বুসে বলেন, দেশটি পর্যাপ্ত তরঙ্গ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি এর জন্য ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করেছে। এর ফলে দেশটির টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের বিনিয়োগ সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাহকদের উন্নত সেবা ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে দেয়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য প্রদান করেন ভিওনের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড চেয়ারম্যান অগি কে ফাবেলা। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান। এছাড়া ভিওনের বোর্ড সদস্য আন্দ্রেই গুসেভ, স্যার ব্র্যান্ডন লুইস, ডানকান পেরি ও মিশেল সোয়েটিং এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে বাংলালিংকের সাম্প্রতিক ও বিদ্যমান ডিজিটাল সেবাগুলোর নতুন সুবিধাসমূহ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল স্টারলিংক-চালিত ডিরেক্ট-টু-সেল সেবা, ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘মুক্ত পে’, বিনোদনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘টফি’, এআই-নির্ভর লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘রাইজ’ এবং ডিভাইস ব্র্যান্ড ‘টেকভ্যান’। বাংলালিংক দাবি করেছে যে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম অপারেটর হিসেবে তারা স্টারলিংক-চালিত ডিরেক্ট-টু-সেল সেবা চালু করেছে। পাশাপাশি জানানো হয়, টফির মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ৭০ লাখে পৌঁছেছে এবং তরুণ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে আনা হয়েছে ‘রাইজ’ ব্র্যান্ডটি।