যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আট মাস ধরে চলমান ইরান যুদ্ধের সমাপ্তির লক্ষ্যে তেহরানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতিতে ইতিবাচক ইঙ্গিত আসার পর এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। তবে সেই আশাবাদের মধ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির বৃহত্তম দ্বীপ কেশমে এই হামলাটি চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সীমিত পরিসরের ধারাবাহিক হামলার সর্বশেষ ঘটনা এটি।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, দ্বীপটিতে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে পর পর পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তারা আকাশে দুটি উড়োজাহাজ উড়তে দেখেছেন।

এই হামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন প্রশ্নগুলো সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কাছে পাঠানোর কথা জানায়। তবে গত রাতে এ বিষয়ে মন্তব্য করার জন্য এএফপি অনুরোধ জানালেও সেন্ট্রাল কমান্ড তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা তাদের প্রতিবেদনে পুনরায় উল্লেখ করেছে যে, “দ্বীপটিতে অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কয়েকজন বাসিন্দা আকাশে দুটি উড়োজাহাজ দেখেছেন বলেও জানিয়েছেন।”

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের ওপর ছোট পরিসরে হামলা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা এই পদক্ষেপগুলোকে আত্মরক্ষামূলক বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মতে, “ইরান যেন হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর অবাধ সুযোগ না পায়, তা নিশ্চিত করতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।” উল্লেখ্য, তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ওয়াশিংটন এই হামলাগুলোর কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেনি। কারণ, এর মাধ্যমে তারা পুনরায় বড় ধরনের কোনো সামরিক অভিযান শুরুর ইঙ্গিত দিতে চায় না।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের দিন সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি ‘হতে পারে’।

হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে সম্ভাব্য চুক্তির আশায় গতকাল তেলের দাম ৭ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।

আজ ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।