কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি নির্বাচনি বা টেস্ট পরীক্ষায় বহিষ্কারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক বিস্ফোরণের বিকট শব্দে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করা হয়।
প্রাথমিক তথ্যানুসারে, পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এই ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে তার প্রকৃত সম্পৃক্ততা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনি পরীক্ষা চলাকালীন প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন। সেই সময় পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে তানজিন রহমান রিদু নামের এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।
অভিযোগ করা হচ্ছে যে, বহিষ্কারের পর ওই শিক্ষার্থী তার কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে আসেন এবং প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ের দিকে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করেন। পরবর্তীতে সেগুলো বিস্ফোরিত হলে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত তানজিন রহমান রিদু ফিলিপনগর ইউনিয়নের চরসাদিপুর গ্রামের মিন্টুর ছেলে বলে জানা গেছে।
এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আমি তখন আমার নিজ কক্ষে ছিলাম। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে বাইরে গিয়ে সবাইকে বের হতে দেখি। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা বলতে পারব না। পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন জমা দিতে বলা হয়েছিল। কয়েকজন জমা দেয়। পরে তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থী নকলের চেষ্টা করলে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এর পরই বাইরে এ ঘটনা ঘটে।”
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে।”
তিনি আরও জানান, “ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
এই ঘটনার বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।