সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি জাল এমআই৬ নথিসহ ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ে। জাল নথিটিতে মুনিজা জাহাঙ্গীর, ফারহাতুল্লাহ বাবর ও হামিদ মীরকে এমআই৬-এর এজেন্ট বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের প্রতি সরকারের সাম্প্রতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে লিখেছেন হামিদ মীর ।
মাজহার আব্বাসের নতুন বইয়ের শিরোনামেই পাকিস্তানের গণমাধ্যমের পুরো চিত্রটি ফুটে উঠেছে। পাকিস্তানের অন্যতম সুপরিচিত এই সাংবাদিকের বইটির নাম মিডিয়া আন্ডার দ্য শ্যাডো অব ডেথ (‘মৃত্যুর ছায়ায় গণমাধ্যম’)। বইটির প্রচ্ছদে দেখা যায়, কলম ও ক্যামেরা হাতে সাংবাদিকেরা সেন্সরশিপের কারাগারে বন্দী।
কয়েক দিন আগে ইসলামাবাদে সুপরিচিত উপস্থাপক আবসা কোমলের সঞ্চালনায় বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কিছুদিন আগে ইসলামাবাদের ন্যাশনাল প্রেসক্লাবের সামনে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রে বেতন না দেওয়ার প্রতিবাদে কথা বলেছিলেন আবসা। এর পরিণতিতে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
আমাদের মতো সাংবাদিকদের কাছে চাকরি হারানো কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় উপস্থিতি নিষিদ্ধ হওয়া নতুন কিছু নয়। উদ্বেগের বিষয় হলো, মাজহার আব্বাসের মতো একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বিশ্বকে সতর্ক করে দিচ্ছেন যে পাকিস্তানের গণমাধ্যম মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে এবং একে বাঁচানো জরুরি।
তাঁর বইয়ে ২০১২ সালে আমার সহকর্মী আবসার আলমকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে করা আমার একটি আবেদনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে মাজহার আব্বাস, আসমা শিরাজি এবং নির্বাসিত অবস্থায় কেনিয়ায় রহস্যজনকভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার প্রয়াত আরশাদ শরিফও আমার সঙ্গে ওই আবেদনের আবেদনকারী হিসেবে যুক্ত হন।
রাষ্ট্রীয় কিছু প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রবহির্ভূত ব্যক্তিদের মাধ্যমে গণমাধ্যমে দুর্নীতির বিস্তারের বিরুদ্ধে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। জবাবদিহির জন্য সবার আগে আমরা নিজেদেরই আদালতের সামনে হাজির করেছিলাম।
আমরা ফেডারেল তথ্য মন্ত্রণালয়ের গোপন তহবিল বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছিলাম। পাশাপাশি বেহরিয়া টাউনের মালিক, আবাসন ব্যবসায়ী ধনকুবের মালিক রিয়াজ সাংবাদিকদের যেসব সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন, সেগুলো প্রকাশ্যে আনারও দাবি জানিয়েছিলাম।
কোয়েটা থেকে আসা সেলিম শহীদ আমাদের জানান, পাকিস্তানের প্রধান টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রগুলো বেলুচিস্তানে তাদের কার্যালয় বন্ধ করে দিচ্ছে এবং দ্রুত কর্মী ছাঁটাই করছে। বেলুচিস্তানের অনেক জেলা গণমাধ্যমের জন্য কার্যত নিষিদ্ধ এলাকায় পরিণত হয়েছে।
আমরা আরও বলেছিলাম, তাঁর ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেন তদন্ত করতে হবে এবং তাঁর কাছ থেকে সুবিধা নেওয়া সব রাজনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু কিছুই হয়নি। সবশেষে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার জন্য গণমাধ্যমের একটি আচরণবিধি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছিলাম আমরা।
একসময় মালিক রিয়াজের সঙ্গে ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ইমরান খানকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের আদালত তাঁকে পলাতক ও ঘোষিত অপরাধী হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
২০১৬ সালে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছেলে হাসান নওয়াজ শরিফের কাছ থেকে লন্ডনের ১ হাইড পার্ক প্লেসে অবস্থিত একটি বিলাসবহুল সম্পত্তি ৪ কোটি ২৫ লাখ পাউন্ডে কিনেছিলেন। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষও তাঁকে খুঁজছে। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস করেন।
অথচ পাকিস্তানের মূলধারার সংবাদপত্রগুলোতে তাঁর বিরুদ্ধে কিছু লেখা এখনো অত্যন্ত কঠিন। পাকিস্তানে তাঁর বিরুদ্ধে আমি যা-ই লিখি, তা সেন্সর করা হবে। রাষ্ট্রবহির্ভূত শক্তির মাধ্যমে কীভাবে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়, মালিক রিয়াজ তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
২০১৬ সালে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছেলে হাসান নওয়াজ শরিফের কাছ থেকে লন্ডনের ১ হাইড পার্ক প্লেসে অবস্থিত একটি বিলাসবহুল সম্পত্তি ৪ কোটি ২৫ লাখ পাউন্ডে কিনেছিলেন। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষও তাঁকে খুঁজছে। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস করেন।
অথচ পাকিস্তানের মূলধারার সংবাদপত্রগুলোতে তাঁর বিরুদ্ধে কিছু লেখা এখনো অত্যন্ত কঠিন। পাকিস্তানে তাঁর বিরুদ্ধে আমি যা-ই লিখি, তা সেন্সর করা হবে। রাষ্ট্রবহির্ভূত শক্তির মাধ্যমে কীভাবে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়, মালিক রিয়াজ তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
বছরের পর বছর ধরে শতাধিক শুনানিতে আমাদের আবেদনটির ওপর বিচারিক কার্যক্রম চলেছিল। এর একটি সাফল্য ছিল তথ্য মন্ত্রণালয়ের গোপন তহবিলের অর্থছাড় বন্ধ করে দেওয়া। এই তহবিল সাংবাদিকদের ঘুষ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হতো। আবেদনকারী ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট পাকিস্তানের ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের জন্য একটি আচরণবিধিও তৈরি করেছিল।
২০১৫ সালে পাকিস্তান ইলেকট্রনিক মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ—পেমরা—এটি কার্যকর করেছিল। দুঃখজনকভাবে, আচরণবিধিটি কখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
আচরণবিধিটি আরোপ করেছিলেন সুপ্রিম কোর্ট। এটি বাস্তবায়নের দায়িত্বও ছিল আদালতের। কিন্তু আদালতের কয়েকজন বিচারক রাজনীতির অংশ হয়ে পড়েন। তাঁদের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার কারণে প্রতিষ্ঠানটির দুর্বলতা আরও বেড়ে যায়।
গোয়েন্দা সংস্থার কর্তাব্যক্তিদের পরিকল্পনায় এবং কয়েকজন হাইকোর্টের বিচারকের নির্দেশে করা বহু মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হয়েছি আমি। সরকার পরিবর্তনের পর ওই বিচারকদের সবাই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। আমি বলতে চাই, সব সময় নিম্ন আদালত থেকে প্রতিকার পেয়েছি; আমার সমস্যার উৎস ছিল উচ্চতর বিচার বিভাগ, যা আরও বেশি রাজনীতিকীকরণের শিকার।
আজ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা থেকে আইনের শাসন, সুশাসন থেকে গণতন্ত্র—সব ক্ষেত্রেই পাকিস্তানের অবস্থান একেবারে তলানিতে। মাজহার আব্বাসের বইটি শুধু পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হারিয়ে যাওয়ার বেদনাময় বিবরণ নয়; এটি বিচার বিভাগ ও সংসদের স্বাধীনতা হারানোরও এক শোকগাথা।
বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার পর আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেন আমি বলেছি, জেনারেল পারভেজ মোশাররফের সামরিক শাসনের সময়ের তুলনায় বর্তমানে গণমাধ্যমের পরিস্থিতি আরও খারাপ।
আমি উত্তরে বলেছিলাম, মোশাররফের শাসনামলে আমারসহ মাত্র পাঁচজন টেলিভিশন উপস্থাপকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। সেই নিষেধাজ্ঞাও ছিল মাত্র কয়েক মাসের জন্য। তিনি প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল।
অথচ আজকের তথাকথিত গণতান্ত্রিক শাসনামলে ১৫ জন টেলিভিশন উপস্থাপককে পর্দা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জনপ্রিয় উপস্থাপক কাশিফ আব্বাসিকে এক বছর ধরে এআরওয়াই টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যাচ্ছে না।
এই সরকার ইমরান খানের সরকারের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে। ২০২১ সালে ইমরান খানের সরকার আমাকে ৯ মাসের বেশি সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল। এখন যাঁদের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি, তাঁরাও নানা ধরনের বিধিনিষেধের মুখোমুখি হচ্ছেন।
আগে শুধু সরকার কিংবা সরকারের জোটসঙ্গী মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) গণমাধ্যমকে হুমকি দিত। এখন সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রবহির্ভূত শক্তিও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কাজ করছে। এসব শক্তির মধ্যে কয়েকটি সন্ত্রাসী সংগঠনও রয়েছে।
বই প্রকাশের কয়েক দিন পর, আমি লাহোরে সাংবাদিকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় যোগ দিয়েছিলাম। সভায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মুনিজা জাহাঙ্গীর। কয়েক সপ্তাহ আগেই তাঁকে টেলিভিশন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর মা আসমা জাহাঙ্গীরের মতো তিনিও মানবাধিকার রক্ষায় সক্রিয়। সে কারণেই তাঁকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের সদস্যরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মুজিবুর রহমান শামি, সুহাইল ওয়ারাইচ, নাজাম শেঠি, আসমা শিরাজি ও আরিফা নূরের মতো ব্যক্তিরা বেলুচিস্তান, সিন্ধু, খাইবার পাখতুনখাওয়া, আজাদ কাশ্মীর এবং গিলগিট-বালটিস্তানের সাংবাদিকদের সমস্যার কথা শোনেন।
কোয়েটা থেকে আসা সেলিম শহীদ আমাদের জানান, পাকিস্তানের প্রধান টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রগুলো বেলুচিস্তানে তাদের কার্যালয় বন্ধ করে দিচ্ছে এবং দ্রুত কর্মী ছাঁটাই করছে। বেলুচিস্তানের অনেক জেলা গণমাধ্যমের জন্য কার্যত নিষিদ্ধ এলাকায় পরিণত হয়েছে।
করাচি ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টসের সভাপতি তাহির হাসান বলেন, করাচি প্রেসক্লাবের বাইরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের শনাক্ত করার জন্য প্রেসক্লাবের চারপাশে ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সিন্ধুতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পেকা আইন, ২০২৫ ব্যবহার করা হচ্ছে।
খাইবার ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টসের নাসির হোসেন খাইবার পাখতুনখাওয়ায় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) আগের সরকারের আমলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
নাসির হোসেন জানান, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে তাঁর প্রদেশে ৩০ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। পেশোয়ার প্রেসক্লাবেও আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়েছে।
পাঞ্জাব ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টসের মহাসচিব কামার ভাট্টি বলেন, পাঞ্জাবে ইমরান শাফকাত ও সাজ্জাদ আনোয়ারসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পেকা আইন ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে প্রদেশটির ৬০ শতাংশ সাংবাদিক বেকার। তাঁর দাবি, পাঞ্জাবের পরিস্থিতি সামরিক শাসনামলের চেয়েও খারাপ।
মুজাফফরাবাদ থেকে আসা আরিফ বাহার বলেন, আজাদ কাশ্মীরের গণমাধ্যমও পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলের মতো একই পরিস্থিতির মুখোমুখি। লেখক ও মানবাধিকারকর্মী ফারহাতুল্লাহ বাবর আজাদ কাশ্মীর বিষয়ে পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের একটি প্রতিবেদনের কথা তুলে ধরেন।
গিলগিট থেকে আসা ইসরারউদ্দিন ইসরার বলেন, গিলগিট-বালটিস্তানে ইন্টারনেট নেই। ফলে সেখানকার মানুষ তথ্যের জন্য টেলিভিশন চ্যানেলের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এসব টেলিভিশন চ্যানেল ওই অঞ্চলের খবরই প্রচার করে না।
পাকিস্তান ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টসের মহাসচিব ও লাহোর প্রেসক্লাবের সভাপতি আরশাদ আনসারি পেকা আইন, ২০২৫-কে একটি কালো আইন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়ী করেন।
পাকিস্তানে এমআই৬-এর এজেন্ট কারা, অবশ্যই তাদের খুঁজে বের করুন। তবে তাদের নামগুলো আমাদেরও জানিয়ে দিন। এমআই৬-এর এজেন্টরা যদি পাকিস্তানের গণমাধ্যমকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে চান, তাহলে আমরা তাঁদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমরা প্রায়ই ব্রিটিশ নীতির সমালোচনা করি, কিন্তু এতে ব্রিটিশদের কোনো সমস্যা হয় না।
তাঁর বক্তব্য, এই আইন পাস করার পাপের ভাগীদার শুধু মাওলানা ফজলুর রহমানের জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (জেইউআই) এবং হাফিজ নাঈমুর রহমানের জামায়াতে ইসলামি নয়। বাকি সবার হাতই এই পাপে কলঙ্কিত। তিনি ঘোষণা করেন, গণমাধ্যমকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে সাংবাদিকেরা খুব শিগগির রাজপথে নামবেন।
তবে একটি আশাব্যঞ্জক ঘটনা ছিল, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে সভায় যোগ দিয়েছিলেন। তিনি অংশগ্রহণকারীদের আশ্বাস দেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পেকা আইন, ২০২৫-এর প্রয়োগ নিরুৎসাহিত করা হবে। তিনি বলেন, আইনটি শুধু ভুয়া খবর ছড়ানো ব্যক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে।
সভাটির আয়োজক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাসির জাইদি বারবার জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নেই। পাকিস্তানের সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকেই আমরা নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে চাই।’
এই গুরুত্বপূর্ণ সভার পরদিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি জাল এমআই৬ নথিসহ ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে দাবি করা হয়, ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬-এর নির্দেশে লাহোরের ওই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
জাল নথিটিতে মুনিজা জাহাঙ্গীর, ফারহাতুল্লাহ বাবর ও আমাকে এমআই৬-এর এজেন্ট বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ক্ষমতাসীন সরকারের পরিচিত অনেক সমর্থকও দাবি করেন, আমাদের ‘লন্ডনের মনিবদের’ নির্দেশেই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এই ভুয়া খবর ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাঁরা জানতে চাইতে শুরু করেন, পাকিস্তানে এমআই৬ কেন আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
আমি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে বলতে চাই, ২০১২ সালে আমরা নিজেরাই জবাবদিহির জন্য নিজেদের সামনে হাজির করেছিলাম। আজ ২০২৬ সালেও আমরা জবাবদিহির জন্য প্রস্তুত। আমাদের যা কিছু আছে, সবই আয়কর বিবরণীতে ঘোষণা করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ যদি সত্যিই মনে করে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলা এমআই৬-এর এজেন্ডা, তাহলে তাদের পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ভাষণগুলো পড়া উচিত। তিনি সব সময় মুক্ত সংবাদমাধ্যমের পক্ষে ছিলেন। ১৯৪৭ সালের আগে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত অনেক সাংবাদিকের পক্ষে আইনজীবী হিসেবেও তিনি আদালতে দাঁড়িয়েছিলেন।
পাকিস্তানে এমআই৬-এর এজেন্ট কারা, অবশ্যই তাদের খুঁজে বের করুন। তবে তাদের নামগুলো আমাদেরও জানিয়ে দিন। এমআই৬-এর এজেন্টরা যদি পাকিস্তানের গণমাধ্যমকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে চান, তাহলে আমরা তাঁদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমরা প্রায়ই ব্রিটিশ নীতির সমালোচনা করি, কিন্তু এতে ব্রিটিশদের কোনো সমস্যা হয় না।
হামিদ মীর পাকিস্তানি সাংবাদিক এবং আরএসএফ বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পুরস্কারের আন্তর্জাতিক জুরির সদস্য।
মতামত লেখকের নিজস্ব
[ ২ নভেম্বর ২০২৬ মুক্তকণ্ঠের ছাপা পত্রিকায় এ লেখা ‘ পাকিস্তান: এমআই৬ কি গণমাধ্যমকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে চাইছে ’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে]