চলতি বছরের প্রথম নয় মাস অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের কর-পরবর্তী নিট মুনাফার হিসাব প্রকাশ করেছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই সময়ে তাদের কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। মূলত পরিচালন আয় বৃদ্ধি এবং ব্যয়ের যথাযথ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আইডিসির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।

উক্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ের মধ্যে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৮২ পয়সা, যেখানে গত বছর এই হিসাব ছিল ৬১ পয়সা। প্রতিষ্ঠানটির মোট সুদ আয় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৪৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং সুদ ব্যয় দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬১ কোটি টাকা। এর ফলে নিট সুদ আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮৮ কোটি টাকা।

বিনিয়োগ খাত থেকে আয় ২৪ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা হয়েছে। পাশাপাশি কমিশন ও ব্রোকারেজ আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ১০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে মোট পরিচালন আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে, পরিচালন ব্যয় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১২৯ কোটি টাকা। তবে ব্যয়ের তুলনায় আয়ের গতি দ্রুত হওয়ায় প্রভিশন–পূর্ব মুনাফা ৪০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১৯০ কোটি ৭০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখের হিসাব অনুযায়ী, ঋণ, অগ্রিম ও লিজের স্থিতি ছিল ৭ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। বাজারের চাহিদার স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যেও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ঋণ প্রদান করেছে আইপিডিসি। আমানতের পরিমাণ ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬৭৯১ কোটি টাকা এবং বিনিয়োগ পোর্টফোলিও ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৫৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

এই সামগ্রিক অর্জন প্রসঙ্গে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজওয়ান দাউদ সামস বলেন, “শিগগিরই ৪৫তম বছরে পা রাখতে যাচ্ছে আইপিডিসি। এই বিশেষ মুহূর্তে এমন অর্জনে ব্যবসার গতি বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক ভিত্তি মজবুত রাখার চেষ্টা ফুটে উঠেছে।”