বক্সিং রিংয়ের সেই বিধ্বংসী প্রতিপক্ষ, যাকে একসময় অভিহিত করা হতো ‘দ্য ব্যাডেস্ট ম্যান অন দ্য প্লানেট’ হিসেবে। মাত্র ২০ বছর বয়সে হেভিওয়েট বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন মাইক টাইসন। তবে তাঁর জীবনের গল্প কেবল সাফল্যের নয়; বরং এর সাথে জড়িয়ে আছে কারাবাস, ধর্ষণ মামলার দণ্ড, মাদকাসক্তি, দাম্পত্য কলহ, চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং পারিবারিক ট্র্যাজেডির মতো অন্ধকার অধ্যায়। জীবনের এই বৈচিত্র্যময় ও জটিল অভিজ্ঞতাগুলো নিয়েই নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে চার পর্বের প্রামাণ্যচিত্র ‘টাইসন’। মুক্তির পরপরই এটি দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হলেও সমালোচকদের মনে জন্ম দিয়েছে তীব্র বিতর্ক। কেউ মনে করছেন, জীবনের উত্থান-পতন নিয়ে টাইসনের এমন অকপট স্বীকারোক্তি আগে কখনও দেখা যায়নি। অন্যদিকে অনেকের অভিযোগ, এই প্রামাণ্যচিত্রটি সাবেক এই বক্সারের জন্য নিজের অপরাধ ও বিতর্কের দায় এড়িয়ে যাওয়ার একটি সুযোগ মাত্র।

মাইক টাইসনের প্রতি মানুষের আকর্ষণ দীর্ঘদিনের। রিংয়ে তাঁর ভয়ংকর উপস্থিতি, প্রতিপক্ষকে মুহূর্তেই নকআউট করার ক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিতর্ক তাঁকে কয়েক দশক ধরে আলোচনায় রেখেছে। ক্রীড়াবিদ হিসেবে পরিচিতির বাইরে তিনি জনপ্রিয় সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য চরিত্রে পরিণত হয়েছেন। সেই কৌতূহলকেই নতুন করে সামনে এনেছে নেটফ্লিক্সের এই সিরিজ।

গত ১৩ অক্টোবর মুক্তি পাওয়া চার পর্বের এই সিরিজটি প্রথম সপ্তাহেই নেটফ্লিক্সের ইংরেজি ভাষার টিভি সিরিজের বৈশ্বিক তালিকায় চতুর্থ স্থান করে নেয়। ১২ থেকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে ৫১ লাখ ভিউ পেয়েছে সিরিজটি। ১৯ থেকে ২৫ অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আরও ৩৮ লাখ ভিউ যোগ হয়ে দুই সপ্তাহের মোট ভিউ দাঁড়িয়েছে ৮৯ লাখে। দ্বিতীয় সপ্তাহেও ইংরেজি ভাষার সিরিজের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে ছিল ‘টাইসন’। এই অভাবনীয় সাফল্যের মূলে রয়েছে টাইসনের বিশ্বব্যাপী পরিচিতি। তবে নির্মাতারা শুরু থেকেই চেয়েছেন খেলাধুলার গণ্ডি পেরিয়ে একজন মানুষের জীবন, খ্যাতি, ক্ষমতা, অপরাধবোধ এবং আত্মপরিচয়ের সংকটকে ফুটিয়ে তুলতে। ফলে বক্সিংয়ের ইতিহাস না জানলেও সাধারণ দর্শকদের কাছে সিরিজটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

১৯৬৬ সালের ৩০ জুন নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিলে জন্ম মাইক টাইসনের। তাঁর শৈশব কেটেছে চরম দারিদ্র্য, পারিবারিক অস্থিরতা এবং সহিংসতার মধ্যে। ছোটবেলায় বুলিংয়ের শিকার হওয়া টাইসন কৈশোরেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন এবং ১৩ বছর বয়সের আগেই একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেন কিংবদন্তি প্রশিক্ষক কাস ডি’আমাতো। টাইসনের ভেতরের প্রতিভা চিনতে পেরে তিনি তাঁকে বক্সিং প্রশিক্ষণ দেন এবং জীবনের সঠিক পথ দেখান। টাইসনের কাছে কাস ছিলেন কেবল একজন প্রশিক্ষক নন, বরং অভিভাবক ও পরামর্শদাতা হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।

১৯৮৫ সালে পেশাদার বক্সিংয়ে অভিষেকের পর দ্রুত সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে ওঠেন টাইসন। ১৯৮৬ সালে ট্রেভর বারবিককে পরাজিত করে মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি হয়ে ওঠেন হেভিওয়েট বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, যা বক্সিং ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন অবিসংবাদিত চ্যাম্পিয়ন। সিরিজের প্রথম পর্বে এই উত্থানের গল্পটিই প্রাধান্য পেয়েছে। শৈশবের দুর্দশা, অপরাধজগৎ থেকে বক্সিংয়ে আসা এবং কাস ডি’আমাতোর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গভীরতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরোনো ফুটেজের পাশাপাশি বর্তমানের টাইসনের সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে অতীতের স্মৃতি। বিশেষ করে কাসের মৃত্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি এবং কাসের তত্ত্বাবধানে কাটানো দিনগুলোকে জীবনের সবচেয়ে সুখের সময় হিসেবে বর্ণনা করেন।

তবে খ্যাতির চূড়া থেকে টাইসনের পতন ছিল দ্রুত ও বেদনাদায়ক। বক্সিংয়ে শীর্ষে উঠলেও ব্যক্তিগত জীবন হয়ে ওঠে জটিল। অভিনেত্রী রবিন গিভেন্সের সঙ্গে বিয়ে, দাম্পত্য কলহ, বিচ্ছেদ, অর্থনৈতিক সংকট এবং মাদকাসক্তি তাঁর জীবনকে অস্থির করে তোলে। ১৯৯০ সালে বস্টার ডগলাসের কাছে হেরে তিনি হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নের খেতাব হারান। এরপর ১৯৯২ সালে ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিন বছরের বেশি সময় কারাগারে কাটাতে হয় তাঁকে। টাইসন বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে মামলাটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুতর বিতর্কের একটি। ১৯৯৭ সালে ইভান্ডার হলিফিল্ডের সঙ্গে লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের কানে কামড় দেওয়ার ঘটনাটি বক্সিং ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর ও আলোচিত মুহূর্ত হয়ে থাকে, যার ফলে তাঁকে জরিমানা গুনতে হয় এবং খেলার বাইরে থাকতে হয়।

সিরিজের পরবর্তী পর্বগুলোতে এই পতন, অর্থের উত্থান-পতন, মাদক ও অ্যালকোহলে আসক্তি এবং পুনরায় নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার লড়াই দেখানো হয়েছে। ২০০৯ সালে চার বছর বয়সী মেয়ে এক্সোডাসের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর শোকের কথা বলেছেন টাইসন, যা তাঁর জীবনের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায়।

সিরিজটির পরিচালনা করেছেন ফ্লয়েড রাস, যিনি এর আগে ‘আনটোল্ড: ম্যালিস অ্যাট দ্য প্যালেস’ এবং ‘আমেরিকান ম্যানহান্ট: দ্য বোস্টন ম্যারাথন বম্বিং’-এর মতো কাজ করেছেন। নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে ছিলেন বিল সিমন্স ও জিম গ্রে। নেটফ্লিক্সের টুডামকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্লয়েড রাস জানান, তাঁর লক্ষ্য ছিল কেবল পরিচিত ঘটনাগুলো দেখানো নয়, বরং ৬০ বছর বয়সী টাইসনকে নিজের জীবন ফিরে দেখার সুযোগ করে দেওয়া। রাসের ভাষায়, টাইসনের জীবনের গল্প আগেও অনেকবার বলা হয়েছে। কিন্তু এ বয়সে এসে তিনি যেভাবে নিজের অতীত নিয়ে ভাবছেন, সেটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে পারে।

নির্মাতা জানান, ৮ থেকে ১২ মাসের মধ্যে টাইসনের সঙ্গে প্রায় আটবার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। তাঁরা টাইসনের শৈশবের এলাকা ব্রাউনসভিল, পুরোনো জিম, লাস ভেগাস এবং ফ্লোরিডার বর্তমান বাড়িতে গিয়েছেন। চারজন আর্কাইভ প্রযোজক টানা ১৬ মাস ধরে পুরোনো ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করেছেন। রাসের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল পুরোনো সাক্ষাৎকারের সঙ্গে বর্তমানের টাইসনের কথোপকথন মিলিয়ে দেখানো, যাতে দর্শক বুঝতে পারেন তরুণ টাইসন এবং অভিজ্ঞ টাইসনের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য।

সিরিজটির প্রযোজক জেনা মিলম্যান, জ্যাকব মিলার ও অ্যালেক্সা গিন্সবার্গ। নির্বাহী প্রযোজকদের তালিকায় আরও আছেন আমান্ডা স্পেন, ইয়োনা ম্যাকলাফলিন, গ্রেগ সি লেক, মাইকেল হিউজ, ডগলাস ব্যাংকার ও পরিচালক ফ্লয়েড রাস। সংগীত পরিচালনা করেছেন রাফার্টি।

টাইসনের জীবন নিয়ে ২০০৮ সালে একটি প্রামাণ্যচিত্র এবং ২০১২ সালে স্পাইক লির পরিচালনায় ব্রডওয়েতে একক মঞ্চ পরিবেশনা হলেও নতুন এই সিরিজের প্রতি আগ্রহের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ফ্লয়েড রাস। তাঁর মতে, টাইসন কেবল একজন বক্সার নন, তিনি একজন ক্রীড়া তারকা, ফ্যাশন আইকন এবং বিতর্কিত জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব, যাঁর জীবন গণমাধ্যম ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাঁর জীবনের নাটকীয়তা—দারিদ্র্য থেকে বিশ্বসেরা হওয়া, বিপুল অর্থ লাভ ও হারানো, কারাবাস এবং ব্যক্তিগত বিপর্যয়—সবই দর্শকের কৌতূহল জাগায়।

তবে সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। ‘দ্য গার্ডিয়ান’–এর সমালোচক হান্না জে ডেভিস সিরিজটিকে চারটির মধ্যে মাত্র এক তারকা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, টাইসনের জীবনের অন্ধকার অধ্যায়গুলো নিয়ে যথেষ্ট জবাবদিহি তৈরি করতে পারেনি প্রামাণ্যচিত্রটি। বরং নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ বেশি পেয়েছেন টাইসন। ‘দ্য গার্ডিয়ান’–এর আরেক সমালোচক অ্যান্ড্রু লরেন্সও সিরিজটিকে অসম্পূর্ণ প্রতিকৃতি হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, টাইসন নিজের জীবনের অনেক কিছু অকপটে বললেও সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলোর দায় স্বীকার করার ক্ষেত্রে তাঁর অনীহা স্পষ্ট।

টাইসন কখনোই নিজেকে খুব সংযত করে উপস্থাপন করেননি। সাক্ষাৎকারে রাগ, আবেগ, অনুশোচনা কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থন—সবই প্রকাশ করেছেন। নতুন সিরিজেও তাঁর এই স্বভাব দেখা গেছে। কোথাও তিনি আবেগপ্রবণ, কোথাও ক্ষুব্ধ, আবার কোথাও নিজের অতীতের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন একসময় হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাই তাঁর কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

সিরিজের শেষ পর্বে একটি চমক হিসেবে টাইসন ও নির্মাতা রাসকে একসঙ্গে সাইকেডেলিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে দেখা যায়। টাইসন জানিয়েছেন, তাঁর ভাষায় ‘টোড’ নামের এই সাইকেডেলিক অভিজ্ঞতা মাদকাসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে তাঁকে সাহায্য করেছে। তাঁর দাবি, এই অভিজ্ঞতার পর তিনি কোকেন ও মদ্যপান ছেড়ে দিয়েছেন। নির্মাতাও সেই অভিজ্ঞতায় অংশ নেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়েছে।

রিভিউ সংকলনকারী ওয়েবসাইট রটেন টমেটোজে সাতজন সমালোচকের পর্যালোচনার ভিত্তিতে সিরিজটির স্কোর ৮৬ শতাংশ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’–এর সমালোচক বেনজি উইলসন সিরিজটিকে চারটির মধ্যে চার তারকা দিয়েছেন। তাঁর মতে, টাইসনের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা, আগ্রাসন ও অপ্রত্যাশিত আচরণ ছিল, সেটিই তাঁকে বক্সিংয়ের রিংয়ে এত আকর্ষণীয় করে তুলেছিল। ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’–এর ড্যানিয়েল ফিয়েনবার্গের কাছেও টাইসনের আবেগপ্রবণ ও অস্থির ব্যক্তিত্ব আকর্ষণীয় মনে হয়েছে।

অন্যদিকে ‘দ্য অবজারভার’–এর বারবারা এলেনের পর্যালোচনায় প্রশংসা রয়েছে। তাঁর মতে, টাইসনের জীবনের অন্ধকার দিকগুলো এড়িয়ে না গিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছে নির্মাতারা। ‘দ্য আইরিশ টাইমস’–এর এড পাওয়ারও সিরিজটিকে আকর্ষণীয়, যদিও কোথাও কোথাও অস্বস্তিকর, বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে সবচেয়ে বড় সমালোচনা তৈরি হয়েছে রবিন গিভেন্স ও ডিজিরি ওয়াশিংটনকে ঘিরে। রবিন গিভেন্সের সঙ্গে টাইসনের সম্পর্কের ইতিহাস এবং নির্যাতনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রবিন বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুললেও টাইসন তা অস্বীকার করেছেন। সিরিজে এই সম্পর্কের কথা থাকলেও রবিন নিজে সাক্ষাৎকার দেননি। একইভাবে ১৯৯১ সালে ধর্ষণের অভিযোগকারী ডিজিরি ওয়াশিংটনও সরাসরি অংশ নেননি, কেবল তাঁর পুরোনো সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে শোনার সুযোগ পাননি দর্শক।

‘দ্য গার্ডিয়ান’–এর সমালোচকদের অভিযোগ, টাইসনের ঘনিষ্ঠদের বক্তব্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় এই দুই নারীর অভিজ্ঞতা যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। বিশেষ করে ধর্ষণ মামলার মতো গুরুতর বিষয়ে শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য ও তাঁর পক্ষের মানুষের মন্তব্যের ওপর নির্ভর করা প্রামাণ্যচিত্রের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। এখানে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিও আলোচনার বিষয়। সিরিজে ট্রাম্পকে টাইসনের পক্ষে কথা বলতে দেখা যায় এবং গণমাধ্যমের সমালোচনার সাথে নিজের অভিজ্ঞতার তুলনা করেন। কিন্তু যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ও দণ্ডের মতো গুরুতর বিষয়ে তাঁর বক্তব্যকে সমালোচকেরা যথেষ্ট মনে করেননি।

প্রামাণ্যচিত্রের শেষ দিকে টাইসনের ছেলে মিগুয়েলের একটি মন্তব্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, তাঁর বাবা পুরোপুরি বদলে যাননি, বরং সময়ের সঙ্গে নিজের প্রকাশভঙ্গি ও জীবনযাপন বদলেছেন। এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে সিরিজটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়—মানুষ কি অতীতের ভুল থেকে সত্যিই বেরিয়ে আসতে পারে, নাকি শুধু নতুনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে শেখে?

টাইসন এখন আগের মতো নিয়মিত লড়েন না, তবে ২০২৪ সালে ইউটিউবার ও বক্সার জেক পলের সঙ্গে তাঁর লড়াই আবারও তাঁকে আলোচনায় নিয়ে আসে। বয়সের ব্যবধান ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও লড়াইটি ঘিরে বিপুল আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। নেটফ্লিক্সে প্রচারিত সেই লড়াইয়ের দর্শকসংখ্যা ও বৈশ্বিক আলোচনা প্রমাণ করে, বক্সিং থেকে দূরে সরে গেলেও টাইসনকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল ফুরায়নি।

নতুন প্রামাণ্যচিত্রে টাইসন নিজের জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে কথা বললেও নিজের ভুলের জন্য কতটা অনুশোচনা করেছেন বা কতটা দায় স্বীকার করেছেন, সেই প্রশ্নের উত্তর পুরোপুরি মেলে না। এ কারণেই সিরিজটি একদিকে যেমন তাঁর জীবনের আকর্ষণীয় দলিল, অন্যদিকে তেমনি বিতর্কিত ব্যক্তিত্বকে কীভাবে পর্দায় উপস্থাপন করা উচিত, সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

ভ্যারাইটি, আইএমডিবি, নেটফ্লিক্সডটকম ও স্ক্রিনর‍্যান্ট অবলম্বনে