সুনামগঞ্জের শাল্লায় ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার এক সাক্ষীর বাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহারে দৌলতপুর গ্রামের আবদুল হেকিম ও জালাল মিয়াসহ মোট ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৭০ থেকে ৮০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
গত রোববার বিকেলে শাল্লা থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা ফরিদা আক্তার। তিনি ওই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষী দুলাল মিয়ার মেয়ে।
শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল এই মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, “তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক নয়টার দিকে দৌলতপুর গ্রামে দুলাল মিয়ার বাড়িতে লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় একদল লোক। এই হামলায় মারধরের ফলে নারীসহ পরিবারের পাঁচজন সদস্য আহত হন। আহতরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে, হামলাকারীরা বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি ছয়টি গরু, পাঁচটি ফ্রিজ, দুটি আইপিএস, দুটি ব্যাটারি, একটি টেলিভিশন, সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ সাড়ে চার লাখ টাকা লুট করেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে এজাহারে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে শাল্লা উপজেলার উজানগাঁও, শ্যামারচর ও পেরুয়া গ্রামে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ এবং ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলেন পার্শ্ববর্তী পেরুয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা রজনী দাস। ওই মামলার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে এলাকার ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুলাল মিয়া উক্ত মামলার একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী।
উল্লেখ্য, দুলাল মিয়ার বাবা মামুদ মিয়া ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ হন। এছাড়া তাঁর বোন জমিলা খাতুন বীরাঙ্গনা হিসেবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি লাভ করেছেন।