ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে অনুমোদনহীন পথে চলাচলের সময় মাইনের আঘাতে দুটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ ঘটেছে। গতকাল রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে এই তথ্যটি প্রকাশ করা হয়।
আইআরজিসি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জাহাজ দুটি প্রণালিতে চলাচলের জন্য নির্ধারিত ও অনুমোদিত পথ অনুসরণ করেনি। ফলে সাগরে পুঁতে রাখা মাইনের সংস্পর্শে আসায় সেগুলোতে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে সংশ্লিষ্ট জাহাজ দুটির নাম, তারা কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল এবং এই ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতটুকু—সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি। তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। দেশটি আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে তাদের নির্ধারিত পথ ব্যবহার করার নির্দেশ দিচ্ছে। এর পাশাপাশি, অনুমতি ছাড়া চলাচলকারী জাহাজের ওপর হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি করেছে। এই দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনার ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। দেশটি জাহাজগুলোকে নিজেদের নির্ধারিত পথ ব্যবহার করতে বলছে। অনুমতি ছাড়া চলাচলকারী জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রণালিতে জাহাজে মাইন হামলার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত শুক্রবার ওমানের মুসান্দাম উপকূলে হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী এলাকায় হামলার শিকার হয়ে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আগুন ধরে যায়। সেখান থেকে ২৫ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে ওমান নৌবাহিনী।
এর আগের দিন ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করার সময় মাইন বিস্ফোরণে চারটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। ওই জাহাজগুলো প্রণালির দক্ষিণ দিকের অনুমোদনহীন পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে দাবি করা হয়।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রথম তিনটি জাহাজ তাদের রাডার ও নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ করে রেখেছিল। এমনকি তারা ইরানি নৌবাহিনীর সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করে।”