সরকারের গত আট মাসের সামগ্রিক কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম দাবি করেছেন যে, দেশ পরিচালনায় বিএনপি সর্বক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) ঠাকুরগাঁও ১ আসনের উপ-নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে বায়তুল মোকারমের উত্তর গেটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সমাবেশ ও পরবর্তীতে বিক্ষোভ মিছিল organizes করে। উক্ত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ টি এম আজহারুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “গত আট মাসে একটা সরকার এত ব্যর্থতার পরিচয় দিতে পারে তা তিনি আগে কখনো দেখতে পাননি”। বর্তমানে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং দখলদারিত্বের মতো অপরাধের কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে এ টি এম আজহার আরও বলেন, “আমি নিজেও একজন জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে এলাকায় গেলে জনগণের কাছ থেকে নানা ক্ষোভের কথা শুনতে পাই এবং নতুন করে জুয়া খেলা আরম্ভ করার মাধ্যমে আমাদের লোকদের পাশাপাশি যুবসমাজকে নষ্ট করা হচ্ছে, এমনকি সীমান্ত এলাকা থেকে মদ ও মাদক নিয়ে এসে যুবসমাজকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে।”

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রীদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এদের মন্ত্রণালয়ে কোনো খবরদারি নাই এবং সামগ্রিকভাবে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, সরকারকে অবিলম্বে সেই জনগণের দাবি মেনে নিতে হবে।

লংমার্চ ও লং ড্রাইভের কার্যকারিতা নিয়ে সমালোচনা করে এই নেতা বলেন, “আপনারা বলেন আমরা লংমার্চের নামে লং ড্রাইভে যাই। গাড়ির তেল খরচ করি, রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ করে রাখি। দুই দিন ধরে টঙ্গীতে অবরোধ চলছে, যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় গাড়ি চলাচল করতে পারছে না এবং ভাঙচুর হচ্ছে, আপনারা এর জন্য কাকে দায়ী করবেন? এই পরিস্থিতি কেন সামলাতে পারছেন না? খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকদের দাবি উপেক্ষা করে যারা কেবল আপনাকে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখবে তাদের বেতন বাড়াবেন আর খেটে খাওয়া মানুষের বেতন বাড়াবেন না।”

অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, অতীতেও আওয়ামী লীগ একই পলিসি নিয়ে চলার কারণে আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে তা সবাই দেখেছে। বড় বড় টাকা-পয়সার প্রজেক্টে হাত দিয়ে কমিশন বাণিজ্য ও টেন্ডারবাজি করার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। টাকা থাকলেই টাকা মারা যায়, কিন্তু দেশের জনগণের খবর না রেখে দেশ-বিদেশ ঘুরে কমিশন খাওয়ার রাজনীতি দিয়ে দেশ চালানো সম্ভব নয়।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে আগামী স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয় এবং দলীয় সরকারের অধীনে কখনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না।

পরিশেষে এ টি এম আজহার বলেন, “কালকের লংমার্চ প্রমাণ করেছে যে দেশের জনগণ এই সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং সরকারের কানে যদি পানি না যায়, তবে অপেক্ষা করুন, জনগণকে আমাদের এক দফা দাবি দিতে হবে না, বরং জনগণ রাজপথে নেমে আপনাদের ক্ষমতা থেকে সরাবে ইনশাআল্লাহ।”