ছেলের এইচএসসি পাসের খবর ফেসবুকে প্রকাশ করার পর থেকেই শুরু হয় আলোচনা। এরই মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সংসদ। একই সাথে বিলুপ্ত করা হয়েছে মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের কমিটিকেও। তবে কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে এই দুই কমিটি বাতিলের কারণ হিসেবে তাদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আজ রোববার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তির কথা জানানো হয়। একই বিজ্ঞপ্তিতে মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের কমিটিকেও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা জেলা ও মেহেরপুর জেলা শাখা ছাত্রদলের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। শিগগিরই ইউনিটগুলোর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।” ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন এই সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেছেন।
উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। ফলাফল ঘোষণার পর রাতে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাজাহান খান তাঁর ছেলের এইচএসসি পাস করার খুশিতে ছবিসহ একটি পোস্ট ফেসবুকে শেয়ার করেন। এই ঘটনার পর ছাত্রদল নেতার বয়স নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
২০১৮ সালের ৫ জুন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল দুই বছর মেয়াদি চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের কমিটি অনুমোদন দিয়েছিল। কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তারা নতুন কমিটি গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ করছিলেন। তবে এমন একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে কমিটি বিলুপ্ত হবে, তা তারা কল্পনাও করেননি।
চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মালিতা কমিটি বিলুপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা কেন্দ্রীয় কমিটিতে যোগাযোগ করছিলেন নতুন করে কমিটি দেওয়ার জন্য। কিন্তু এ রকম একটি ঘটনার মধ্য দিয়ে তা হবে, সেটা কখনো ভাবেননি।” এই পরিস্থিতির জন্য তিনি কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের খামখেয়ালিপনাকে দায়ী করেন। তাঁর মতে, এইচএসসি পাস করা ছেলের ফলাফল নিয়ে ফেসবুকে এভাবে প্রকাশ্যে না এলেও পারতেন শাজাহান খান।
অন্যদিকে, কমিটি বিলুপ্তির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই বলে জানিয়েছেন বিদায়ী সভাপতি শাজাহান খান। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় কর্মী থেকে নেতা হয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার কথা উল্লেখ করে শাজাহান বলেন, “বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাইলে পরবর্তী সময়ে যুবদলের রাজনীতিতে থাকার ইচ্ছা আছে।”