উচ্চশিক্ষায় ভর্তির জন্য এবার পর্যাপ্ত আসন রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তাঁর মতে, এবার উচ্চশিক্ষায় ভর্তিযোগ্য প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার আসন রয়েছে, যার ফলে উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীই উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের সুযোগ পাবেন।
আজ শনিবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এই ফলাফল প্রকাশের উপলক্ষ্যে সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা জানান।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। সামগ্রিক গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে। এছাড়া জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন।
এবারের পরীক্ষার একটি বিশেষ দিক হলো, সর্বোচ্চ এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। তারা এক মাসের মধ্যে কেবল যে বিষয়গুলোতে ফেল করেছেন, সেগুলোতে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তথ্যানুসারে, এবার এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন।
সাধারণত এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে তাঁকে পরবর্তী বছরের পরীক্ষা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী চাইলে শুধু অকৃতকার্য হওয়া বিষয়গুলোতে অথবা সব বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দিতে পারেন। তবে মাত্র একটি বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা করতে হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে এবং তাঁদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। এই সমস্যা দূর করতেই এবার বিশেষ ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি; অর্থাৎ ওই প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। বিপরীতে, শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৯টিতে।