একটি গানের কথা বলা যাক, যা শুনলে মনে হবে যেন এর ভেতরে কয়েকটি ভিন্ন গান লুকিয়ে আছে। শুরুটা হয় শান্ত, ধীর এবং বিষণ্নতায় ঘেরা। এরপর একে একে যুক্ত হয় পিয়ানোর সুর, গিটারের ঝংকার, অপেরার নাটকীয়তা এবং এক পর্যায়ে এসে ঘটে হার্ড রকের এক বিশাল বিস্ফোরণ! তবে শেষটা আবারও শান্ত। প্রায় ছয় মিনিটের এই সংগীতযাত্রায় প্রচলিত অর্থে কোনো কোরাস নেই, অথচ গানটি একবার শুনতে বসলে শেষ না করে ওঠা প্রায় অসম্ভব। গানটির নাম ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’। ব্রিটিশ রক ব্যান্ড কুইনের এই কালজয়ী সৃষ্টিটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর। আজ পূর্ণ হলো ৫১ বছর। অর্ধশতাব্দী পেরিয়েও গানটি কেন এত জনপ্রিয় এবং সংগীতের ইতিহাসে এই ব্যতিক্রমী সৃষ্টিটি কীভাবে তৈরি হয়েছিল? আজ আমরা সেই অজানা গল্পটিই জানব।
শুরুটা হয়েছিল ফ্রেডি মার্কারির মাথায়। ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’র মূল কারিগর ছিলেন কুইনের প্রধান গায়ক ফ্রেডি মার্কারি। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি এই গানটির পরিকল্পনা করেন। সেই সময় কুইন তাদের চতুর্থ অ্যালবাম ‘আ নাইট অ্যাট দ্য অপেরা’ তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ফ্রেডির মাথায় ছিল এক অদ্ভুত ও সাহসী পরিকল্পনা। তিনি এমন একটি গান তৈরি করতে চেয়েছিলেন, যেখানে একই সঙ্গে ব্যালে, অপেরা ও রক সংগীতের বৈশিষ্ট্য মিশে থাকবে। প্রচলিত পপ গানের নির্দিষ্ট কাঠামো অনুসরণ না করে তিনি কয়েকটি পৃথক সংগীতাংশকে মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গানে রূপ দিতে চেয়েছিলেন।
কুইনের গিটারবাদক ব্রায়ান মে পরবর্তীতে স্মৃতিচারণ করে জানিয়েছিলেন, গানটির প্রায় সম্পূর্ণ কাঠামোই ছিল ফ্রেডির মাথায়। তিনি ছোট ছোট কাগজে সংগীতের বিভিন্ন নোট লিখে রাখতেন। দলের অন্য সদস্যরা তখনো পুরোপুরি বুঝতে পারছিলেন না যে শেষ পর্যন্ত গানটি কেমন হবে। কিন্তু ফ্রেডি জানতেন তিনি ঠিক কী তৈরি করতে চান। পিয়ানোয় বসে তিনি একেকটি অংশ বাজিয়ে শোনাতেন। কোথায় গিটার প্রবেশ করবে, কোথায় কণ্ঠের স্তর বাড়বে এবং কোথায় অপেরার নাটকীয়তা তৈরি হবে—সবকিছু নিয়েই তাঁর স্পষ্ট ধারণা ছিল। ২০২৫ সালে গানটির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রোলিং স্টোনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও ব্রায়ান মে ও ড্রামার রজার টেলর ফ্রেডির সেই সংগীতভাবনার কথা স্মরণ করেন। তাঁদের ভাষ্যে, ফ্রেডি কেবল অসাধারণ গায়কই ছিলেন না, ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ সংগীতস্রষ্টাও।
একটি বিস্ময়কর তথ্য সামনে এসেছে ২০২৩ সালে, যার ফলে জানা যায় গানটির নাম হওয়ার কথা ছিল ‘মঙ্গোলিয়ান র্যাপসোডি’! লন্ডনের নিলাম প্রতিষ্ঠান সোথেবিসে ফ্রেডি মার্কারির হাতে লেখা গানের খসড়া তোলা হয়। সেখানে দেখা যায়, ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’র নাম প্রথমে ভাবা হয়েছিল ‘মঙ্গোলিয়ান র্যাপসোডি’।
১৫ পৃষ্ঠার সেই খসড়ার এক জায়গায় ‘মঙ্গোলিয়ান’ শব্দটি কেটে তার ওপরে ‘বোহেমিয়ান’ লিখেছিলেন ফ্রেডি। শুধু নাম নয়, গানের কথাগুলোও প্রথম দিকে ভিন্ন ছিল এবং পরবর্তী সময়ে একাধিক পঙ্ক্তি পরিবর্তন করা হয়। ব্রিটিশ মিডল্যান্ড এয়ারওয়েজের কাগজে লেখা সেই খসড়ায় গানের বিভিন্ন অংশের সুরবিন্যাস, কণ্ঠের সমন্বয় ও অপেরা অংশের শব্দগুলো পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত খসড়াটি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রায় ১৩ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হয়। সংগীত বিশেষজ্ঞদের কাছে এই নথিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে বোঝা যায় চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার আগে গানটি নিয়ে ফ্রেডি কতটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন।
রেকর্ডিং প্রক্রিয়াটি ছিল যেন এক অসম্ভব অভিযান। ১৯৭৫ সালের আগস্টে ওয়েলসের মনমাউথের কাছে রকফিল্ড স্টুডিওতে গানটির রেকর্ডিং শুরু হয়। পরবর্তীতে লন্ডনের আরও কয়েকটি স্টুডিওতে কাজ চলে। প্রযোজনায় ছিলেন রয় টমাস বেকার ও কুইনের সদস্যরা। সেই সময়ে ডিজিটাল রেকর্ডিংয়ের কোনো সুবিধা ছিল না। অ্যানালগ টেপে একাধিকবার কণ্ঠ ও বাদ্যযন্ত্র রেকর্ড করে স্তর তৈরি করতে হতো। বর্তমান সময়ে কম্পিউটারের সফটওয়্যারে যে কাজ খুব সহজেই করা যায়, তখন সেটি ছিল অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। বিশেষ করে গানটির অপেরা অংশ তৈরিতে বিপুল পরিশ্রম করতে হয়েছিল। ফ্রেডি মার্কারি, ব্রায়ান মে ও রজার টেলর নিজেদের কণ্ঠ বারবার রেকর্ড করেন। একটির ওপর আরেকটি কণ্ঠ বসিয়ে তৈরি করা হয় বিশাল সমবেত কণ্ঠের আবহ। গানটির এই অংশে প্রায় ১৮০টি ভোকাল ওভারডাব ব্যবহারের কথা বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সংগীতবিষয়ক গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে এটি ১৮০ জন আলাদা গায়কের কণ্ঠ ছিল না; মাত্র তিনজনের কণ্ঠ বহুবার রেকর্ড করে তৈরি করা হয়েছিল সেই শব্দজগৎ।
অসংখ্যবার রেকর্ডিং ও টেপ ব্যবহারের ফলে মূল টেপের কিছু অংশ এতটাই ক্ষয়ে গিয়েছিল যে তা প্রায় স্বচ্ছ হয়ে পড়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্মৃতিচারণা করেছেন। ১৯৯৫ সালে সংগীতবিষয়ক সাময়িকী ‘সাউন্ড অন সাউন্ড’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রযোজক রয় টমাস বেকার জানিয়েছিলেন, গানটির বিভিন্ন অংশ আলাদাভাবে রেকর্ড করা হয়েছিল। অপেরা অংশ প্রথমে তুলনামূলক ছোট রাখার পরিকল্পনা থাকলেও কাজ করতে করতে সেটি আরও বড় হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত প্রায় ছয় মিনিটের একটি গান তৈরি করতে যে শ্রম, সময় ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন হয়েছিল, তা সেই সময়ের পপসংগীতের জন্য ছিল একেবারেই ব্যতিক্রমী।
একটি গানে এত রূপ কেন? ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’র সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর সংগীতকাঠামো। শুরুতে কণ্ঠের সমন্বয়, এরপর পিয়ানোর সুর, তারপর গিটার সোলো। হঠাৎ শুরু হয় নাটকীয় অপেরা অংশ এবং সেখান থেকে গানটি প্রবেশ করে হার্ড রকে! শেষে আবার ফিরে আসে শান্ত ও বিষণ্ন আবহ। অপেরা অংশে শোনা যায় ‘গ্যালিলিও’, ‘স্কারামুশ’, ‘বিসমিল্লাহ’সহ নানা শব্দ। বিভিন্ন কণ্ঠের প্রশ্নোত্তর, উচ্চ স্বর, দ্রুত তালবদল আর নাটকীয় পরিবেশনা গানটিকে যেন মঞ্চের একটি ছোট সংগীতনাট্যে পরিণত করে। ব্রায়ান মের গিটার, জন ডিকনের বেস, রজার টেলরের ড্রামস এবং ফ্রেডির পিয়ানো ও কণ্ঠ—সবকিছু মিলিয়ে তৈরি হয় এক অভিনব সংগীতরূপ। এই গান প্রচলিত রকগানের ধারণাকেও চ্যালেঞ্জ করেছিল। সাধারণত জনপ্রিয় গানে একই সুর বা কোরাস বারবার ফিরে আসে, কিন্তু ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’ সেই নিয়ম মানেনি। গানটির প্রতিটি অংশ যেন গল্পের নতুন একটি অধ্যায়।
তবে গানের আসল অর্থ কী? গানটির কথায় এক তরুণের অপরাধবোধ, মায়ের কাছে স্বীকারোক্তি, বিচার, ভয়, অসহায়ত্ব ও নিয়তির কাছে আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ফ্রেডি কি সত্যিই নির্দিষ্ট কোনো গল্প বলতে চেয়েছিলেন? এই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর আজও পাওয়া যায়নি। কেউ মনে করেন, গানটি অপরাধবোধ ও আত্মপরিচয়ের সংকট নিয়ে। কেউ এতে জীবন, মৃত্যু ও মুক্তির প্রতীক খুঁজে পান। আবার অনেকের ধারণা, নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও পরিচয়সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের কিছু অভিজ্ঞতা গানের কথায় রূপ দিয়েছিলেন ফ্রেডি। তবে ফ্রেডি নিজে কখনো গানটির একটি নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রতিষ্ঠা করেননি; বরং শ্রোতাদের নিজস্ব অর্থ খুঁজে নেওয়ার সুযোগ রেখেছিলেন। ২০২৫ সালে রোলিং স্টোনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রায়ান মে ও রজার টেলরও জানান, ফ্রেডি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছিলেন, তার পুরো উত্তর তাঁদের জানা নেই। ফলে গানটির অর্থ নিয়ে নানা ব্যাখ্যা থাকলেও কোনো একটিকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই।
ছয় মিনিটের গানটি প্রকাশের সময় বেশ কিছু আপত্তির সম্মুখীন হয়েছিল। রেকর্ডিং শেষ হওয়ার পর সামনে আসে সমস্যা যে গানটি প্রায় ছয় মিনিট দীর্ঘ। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে রেডিওতে সাধারণত এর চেয়ে অনেক ছোট গান প্রচার করা হতো। ফলে এত দীর্ঘ ও অপ্রচলিত কাঠামোর গান শ্রোতারা গ্রহণ করবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। গানটির দৈর্ঘ্য কমিয়ে প্রকাশের কথাও উঠেছিল, কিন্তু কুইন নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরেনি। এই সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ব্রিটিশ রেডিও উপস্থাপক কেনি এভারেট। আনুষ্ঠানিক প্রকাশের আগেই গানটির একটি কপি তাঁর হাতে পৌঁছায় এবং তিনি নিজের অনুষ্ঠানে গানটি বারবার বাজাতে থাকেন। একটি সপ্তাহান্তে ১৪ বার গানটি বাজানোর কথা সংগীতের ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। শ্রোতাদের আগ্রহ দ্রুত বাড়তে থাকে এবং অনেকেই জানতে চান গানটি কোথায় পাওয়া যাবে। শেষ পর্যন্ত ১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর একক গান হিসেবে প্রকাশিত হয় ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’। অল্প সময়ের মধ্যেই যুক্তরাজ্যের সংগীত তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে গানটি এবং টানা ৯ সপ্তাহ এক নম্বরে থাকে। যে দৈর্ঘ্য নিয়ে সংশয় ছিল, সেটিই যেন হয়ে ওঠে গানটির সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি।
বদলে দিয়েছিল মিউজিক ভিডিওর ধারণাও এই গানটি। ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’ শুধু গান হিসেবে নয়, মিউজিক ভিডিওর ইতিহাসেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৫ সালের ১০ নভেম্বর লন্ডনের এলস্ট্রি স্টুডিওতে ধারণ করা হয় গানটির প্রচারণামূলক ভিডিও, যার পরিচালনায় ছিলেন ব্রুস গাওয়ার্স। ভিডিওর শুরুতে অন্ধকারের মধ্যে কুইনের চার সদস্যের মুখ দেখা যায়। পরে আলো, ছায়া, একাধিক প্রতিচ্ছবি ও বিশেষ ক্যামেরা ইফেক্টের ব্যবহারে তৈরি হয় নাটকীয় দৃশ্য। ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছিল তুলনামূলক কম সময়ে ও সীমিত বাজেটে। মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যান্ডকে সশরীর টেলিভিশন অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হয়েও গানটি প্রচারের সুযোগ করে দেওয়া। এর আগে মিউজিক ভিডিও বা সংগীতভিত্তিক প্রচারণামূলক চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছিল, তাই এটিকে ইতিহাসের প্রথম মিউজিক ভিডিও বলা সঠিক নয়। তবে আধুনিক মিউজিক ভিডিওকে সংগীত প্রচারের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠায় এর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৯ সালে ইউটিউবে গানটির অফিশিয়াল ভিডিও ১০০ কোটি ভিউ অতিক্রম করে। নব্বইয়ের দশকের আগে তৈরি কোনো মিউজিক ভিডিওর জন্য সেটিই ছিল প্রথম এমন অর্জন।
ফ্রেডির মৃত্যুর পর গানটি আবার শীর্ষে পৌঁছায়। ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’র জনপ্রিয়তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় ১৯৯১ সালে। সেই বছরের ২৪ নভেম্বর মারা যান ফ্রেডি মার্কারি। তাঁর মৃত্যুর পর গানটি আবার প্রকাশিত হয় ‘দিজ আর দ্য ডেজ অব আওয়ার লাইভস’-এর সঙ্গে ডাবল এ-সাইড সিঙ্গেল হিসেবে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, গানটি আবারও যুক্তরাজ্যের সংগীত তালিকায় এক নম্বরে উঠে আসে এবং এবার শীর্ষে থাকে টানা পাঁচ সপ্তাহ। একই গান ভিন্ন দুই সময়ে যুক্তরাজ্যের ক্রিসমাস চার্টে শীর্ষস্থান অর্জন করেছিল—যা সংগীতের ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা। ১৯৯২ সালে হলিউডের কমেডি চলচ্চিত্র ‘ওয়েইনস ওয়ার্ল্ড’-এ গানটির ব্যবহার নতুন প্রজন্মের কাছে এর জনপ্রিয়তা বাড়ায়। এরপর ২০১৮ সালে মুক্তি পায় কুইন ও ফ্রেডি মার্কারিকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’। ছবিটির বিশ্বব্যাপী সাফল্য গানটিকেও নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে।
৫১ বছর পরও কেন এত জনপ্রিয় এই গান? ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’ কেবল একটি সফল রকগান নয়, এটি জনপ্রিয় সংগীতে সৃজনশীল স্বাধীনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। একটি গানের মধ্যে অপেরা, ব্যালে ও হার্ড রককে মিলিয়ে ফ্রেডি মার্কারি দেখিয়েছিলেন যে, জনপ্রিয় হওয়ার জন্য সব সময় প্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুসরণ করতে হয় না। ভিন্ন ধরনের সংগীতভাবনাও বিপুলসংখ্যক শ্রোতাকে আকৃষ্ট করতে পারে। ২০০৪ সালে গানটি গ্র্যামি হল অব ফেমে জায়গা পায়। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেস গানটিকে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের জন্য ন্যাশনাল রেকর্ডিং রেজিস্ট্রিতে অন্তর্ভুক্ত করে। কুইনের সংগীতজীবনে গানটির প্রভাবও ছিল সুদূরপ্রসারী। ‘আ নাইট অ্যাট দ্য অপেরা’ অ্যালবামের সাফল্যের সঙ্গে ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’ ব্যান্ডটিকে আন্তর্জাতিক খ্যাতির নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। ফ্রেডি মার্কারি নেই সাড়ে তিন দশকের কাছাকাছি সময় ধরে। বদলে গেছে সংগীত শোনার মাধ্যম, শ্রোতার রুচি এবং রেকর্ডিংয়ের প্রযুক্তি। কিন্তু ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’ এখনো সমানভাবে বিস্মিত করে। গানটির কোন অংশে শ্রোতা কী শুনবেন বা কোথায় সুরের বাঁক বদলাবে, তা আগে থেকে অনুমান করা কঠিন।
সূত্র: কুইনের রেকর্ড লেবেল হলিউড রেকর্ডস, রোলিং স্টোন, সাউন্ড অন সাউন্ড, বিবিসি অবলম্বনে।