ইসরায়েলিরা যখন তাদের সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিতে যাচ্ছে, ফিলিস্তিনিদের সামনে তখন কোনো ভোটের দেখাই নেই। আগামী ২৮ নভেম্বরের ফিলিস্তিনি আইনসভা নির্বাচন হতে পারত ২০০৬ সালের জানুয়ারির পর তাদের প্রথম নির্বাচন—যখন হামাস পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল।

গত ১০ অক্টোবর, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস একটি অধ্যাদেশ জারি করে নির্বাচন স্থগিত করে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে পিছিয়ে দেন এবং তাঁর নির্বাচনের সময়কাল একই তারিখে নির্ধারণ করেন। পাঁচ বছরের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বার ভোট স্থগিত করার ঘটনা।

এই একই নেতৃত্বই এখন ফিলিস্তিনি ঐক্যের শর্তাবলি নির্ধারণ করছে। জাতীয় পুনর্মিলনের মূল্য হিসেবে আব্বাস কর্তৃক নির্ধারিত সাতটি রাজনৈতিক শর্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেওয়ার জন্য হামাসের প্রতি দাবি জানিয়েছে ফাতাহ।

১৪ অক্টোবর কায়রোতে অনুষ্ঠিত আলোচনায় জিবরিল রাজুবের নেতৃত্বাধীন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শ্তাইয়েহসহ ফাতাহর একটি প্রতিনিধিদল জোর দিয়েছিল যে হামাসকে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) রাজনৈতিক কর্মসূচি ও চুক্তিগুলোর প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে, যার মধ্যে ইসরায়েলের স্বীকৃতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রতিনিধিদলটি হামাসকে জাতিসংঘের প্রস্তাবের ভিত্তিতে দ্বিরাষ্ট্র সমাধান নীতি এবং কেবল শান্তিপূর্ণ জনপ্রিয় প্রতিরোধ সংগ্রামের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখার আহ্বান জানায়। তাদের শর্তাবলির মধ্যে আরও ছিল একটি একক বৈধ সশস্ত্র কর্তৃপক্ষ গঠন, পশ্চিম তীর ও গাজা শাসন করার জন্য আব্বাস কর্তৃক নিযুক্ত একটি টেকনোক্র্যাট সরকার এবং ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার একচ্ছত্র দায়িত্ব পিএলওর ওপর ন্যস্ত করা।

ফাতাহ হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোকে পিএলও এবং ফিলিস্তিনি জাতীয় কাউন্সিলে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আলোচনার আগেই এই প্রতিশ্রুতিগুলোতে স্বাক্ষর করতে বলেছিল। হামাস নীতিগতভাবে নথিটি গ্রহণ করেছে এবং ভেতরে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে, তবে তারা দ্বিরাষ্ট্র–সংক্রান্ত ধারা এবং ইসরায়েলকে স্বীকৃতির বিষয়ে তীব্র আপত্তি প্রকাশ করেছে। ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নির্বাচনের পর পর্যন্ত পরবর্তী অধিবেশন স্থগিত রেখে কোনো চুক্তি ছাড়াই পর্বটি শেষ হয়।

ফাতাহর এসব দাবির সবচেয়ে উদ্বেগের দিকটি হলো তাদের মধ্যকার এই প্রচ্ছন্ন ধারণা—হামাস ফাতাহর রাজনৈতিক কর্মসূচি মেনে নিলেই কেবল ফিলিস্তিনি পুনর্মিলন সম্ভব। যে আন্দোলন দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় আলোচনার পরও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা বা ন্যূনতম অধিকার অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের কাছ থেকে এমন একটি প্রস্তাব সত্যিই বিস্ময়কর।

ফিলিস্তিনি ঐক্যের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। ফাতাহ ও হামাসের মধ্যকার বিভাজন ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে, জাতীয় প্রতিনিধিত্বকে খণ্ডিত করেছে এবং গাজা ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আগেই একটি আন্দোলনকে তার মৌলিক রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সমর্পণ করতে বাধ্য করার মাধ্যমে কোনো ঐক্য অর্জিত হতে পারে না।

গাজায় একদিকে ইসরায়েলের গণহত্যা চলছে, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ জায়নবাদের ভিত্তি ও চাপিয়ে দেওয়া রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অথচ ফাতাহ দাবি করছে যে হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে সেই ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দিক এবং অসলো চুক্তির পর থেকে ফিলিস্তিনিদের জন্য ব্যর্থ প্রমাণিত হওয়া কূটনৈতিক কাঠামো মেনে নিক।

পিএলওর কর্মসূচি কোনো পবিত্র বা অপরিবর্তনীয় বিষয় নয়। গত অর্ধশতকে ফিলিস্তিনি জনগণের কোনো গণতান্ত্রিক অনুমোদন ছাড়াই এটি বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৭৪ সালে, পিএলও তার ‘দশ দফা কর্মসূচি’ গ্রহণ করে, যা ইসরায়েলি দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত যেকোনো অঞ্চলে ফিলিস্তিনি জাতীয় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত করেছিল।

১৯৮৮ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং আনুষঙ্গিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো জাতিসংঘের প্রস্তাবনা এবং ১৯৬৭ সালের সীমানার ওপর ভিত্তি করে একটি সমাধানের দিকে আরও এগিয়ে যায়। ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে পিএলও আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়। প্রতিটি ছাড়কে স্বাধীনতার দিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল, যদিও ফিলিস্তিনিরা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা শরণার্থীদের ফিরে আসার কোনো বাধ্যতামূলক গ্যারান্টি লাভ করেনি।

১৯৯৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে ইয়াসির আরাফাত, আইজাক রবিন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের উপস্থিতিতে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিমন পেরেজের সঙ্গে পিএলওর পক্ষে অসলো চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন আব্বাস। তার চার দিন আগে আরাফাত পিএলওর পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। বিনিময়ে ইসরায়েল পিএলও-কে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তবে ইসরায়েল ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি, দখলদারিত্ব অবসানে সম্মত হয়নি, শরণার্থীদের ফিরে আসার অধিকার মেনে নেয়নি, কিংবা পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের কোনো অধিকারও স্বীকার করেনি।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই ব্যর্থ কাঠামোর প্রতি জেদের সঙ্গে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। এর প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা সবই গড়ে উঠেছে অসলো চুক্তিকে কেন্দ্র করে, যদিও ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনের সম্ভাবনা ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছে। অসলো ত্যাগ করার অর্থ হবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ যে কৌশলের ওপর তার ক্ষমতা গড়ে তুলেছে তা ব্যর্থ হয়েছে বলে মেনে নেওয়া। এর বদলে তারা চায় হামাস তাদের সেই রেকর্ডকে সমর্থন করুক।

২০০৫ সালে চার বছরের মেয়াদে নির্বাচিত আব্বাস এখন কোনো নতুন গণপ্রতিনিধিত্বের জনসমর্থন ছাড়াই ২২তম বছরে পদার্পণ করেছেন এবং ২০০৬ সালে হামাস যে পার্লামেন্টে জয়ী হয়েছিল তার পর থেকে সেখানেও কোনো পুনর্নির্বাচন হয়নি। দুই দশক ধরে জাতীয় নির্বাচনের মুখোমুখি না হওয়া কোনো নেতৃত্ব ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণের মূল্য হিসেবে নিজস্ব রাজনৈতিক কাঠামোর আনুগত্য দাবি করার অবস্থানে থাকতে পারে না।

পিএলও ফিলিস্তিনি জনগণের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি হওয়ার দাবি করে। সেই দাবির সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের পুরো রাজনৈতিক মতাদর্শকে প্রতিনিধিত্ব করার বাধ্যবাধকতা জড়িয়ে রয়েছে—যার মধ্যে এর বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে মৌলিকভাবে দ্বিমত পোষণকারী দলগুলোও অন্তর্ভুক্ত। কায়রোর শর্তগুলো সেই নীতির বিপরীত।

ফাতাহ দাবি করছে যে সব ফিলিস্তিনির প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঢোকার আগেই হামাসকে তাদের কর্মসূচি মেনে নিতে হবে। এটি কোনো পুনর্মিলন নয়, এটি রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ। প্রকৃত পুনর্মিলন শুরু হতে হবে পিএলওর সংস্কারের মাধ্যমে, যাতে ফিলিস্তিনিরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে এবং কোনো একক উপদলের শর্ত চাপিয়ে দেওয়া ছাড়াই তাদের জাতীয় কর্মসূচি নির্ধারণ করতে পারে।

ইসরায়েলের এই গণহত্যা ফিলিস্তিন–সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আলোচনাকে আমূল বদলে দিয়েছে। পুরো আবাসন এলাকা ধ্বংস করা, ব্যাপক হারে বেসামরিক লোক হত্যা, বাধ্যতামূলক বাস্তুচ্যুতি, অনাহার এবং হাসপাতাল, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস এমন বাস্তবতাকে উন্মোচিত করেছে, যা পশ্চিমা সরকারগুলো এবং মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো কয়েক দশক ধরে ঢেকে রেখেছিল।

২০২৪ সালের নভেম্বরে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

আইনি এই অগ্রগতিগুলো জনসচেতনতায় একটি ব্যাপক পরিবর্তনের সঙ্গে মিলে গেছে। বিশ্বজুড়ে অভূতপূর্ব আন্দোলন গড়ে উঠেছে। জায়নবাদের ঐতিহাসিক ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তোলা শুরু হয়েছে। এটি আর কেবল ১৯৬৭ সালে দখলকৃত ভূখণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

অনেকের জন্য মূল প্রশ্নটি এখন বদলে গেছে। একটি সম্ভাব্য ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সীমানা কোথায় টানা উচিত—প্রশ্নটি আর সেটি নেই; বরং প্রশ্ন উঠেছে যে বসতি স্থাপনকারী ঔপনিবেশিকতা, উৎখাত এবং জাতিগত আধিপত্যের ওপর গড়ে ওঠা কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা কখনো সমতা, স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মর্যাদা এনে দিতে পারে কি না। পশ্চিমা সরকারগুলো ইসরায়েলকে অস্ত্র প্রদান ও সুরক্ষা দেওয়া অব্যাহত রাখলেও কিন্তু সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

এমন এক মুহূর্তে, জাতীয় ঐক্যের শর্ত হিসেবে ফিলিস্তিনিদের কাছে সেই ব্যবস্থার বৈধতাকে পুনরায় স্বীকার করার দাবি জানানো হচ্ছে, যা ইতোমধ্যেই ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যরা যেসব সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে, তা তৈরিতে হামাসের নিজস্ব দায়বদ্ধতাও খতিয়ে দেখতে হবে। ২০১৭ সালের মে মাসে দলটি দোহায় তাদের ‘জেনারেল প্রিন্সিপালস অ্যান্ড পলিসিস’ নথিটি প্রকাশ করে। এটি সঠিকভাবে ইহুদি ধর্ম ও জায়নবাদের মধ্যে পার্থক্য করেছিল। কিন্তু ধারা ২০-এ জেরুজালেমকে রাজধানী করে এবং শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের অধিকার নিশ্চিত করে ১৯৬৭ সালের সীমানার ওপর ভিত্তি করে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে জাতীয় ঐকমত্যের একটি সূত্র হিসেবে মেনে নেওয়া হয়েছিল।

হামাস জোর দিয়েছিল যে এটি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া কিংবা ফিলিস্তিনিদের কোনো অধিকার ত্যাগ করা নির্দেশ করে না। তবু, আমার মতে, দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের আঞ্চলিক কাঠামো গ্রহণ করার মাধ্যমে তারা বাকি সূত্রগুলো মেনে নেওয়ার দাবির পথ তৈরি করে দিয়েছিল। কায়রোর দাবিগুলো সেই বিপদকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।

২০২৫ সালের মে মাসে ইসরায়েলি-আমেরিকান সেনা ইদান আলেকজান্ডারকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে তাদের যে পদক্ষেপ, তা আরও একটি সতর্কবার্তা দেয়। আমেরিকান মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের পর হামাস একটি উল্লেখযোগ্য দর–কষাকষির কার্ড হাতছাড়া করেছিল। আগস্টে আমি যেমনটা বলেছিলাম, বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা ছাড়া কেবল সদিচ্ছা দিয়ে কাজ হয় না।

কায়রোর দাবিগুলোর মধ্যে আরও বড় এবং স্থায়ী ধরনের ছাড় জড়িয়ে রয়েছে। ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া, পিএলও কর্মসূচি মেনে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত অধিকার ‘সশস্ত্র প্রতিরোধ’ ত্যাগ করা এই আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিচয়কেই বদলে দেবে। একবার চুক্তিতে লিখিত হলে এই ধরনের প্রতিশ্রুতিগুলো সহজে প্রত্যাহার করা যায় না।

ফিলিস্তিনি পুনর্মিলনকে উপদলীয় নেতৃত্বের মধ্যে কেবল আরেকটি চুক্তির চেয়েও বেশি কিছু হতে হবে। এটি এমন একটি জাতীয় আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করবে, যা দখলদারিত্বের অধীন, শরণার্থীশিবিরে এবং প্রবাসে থাকা ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্ব করে—যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো গণতান্ত্রিকভাবে জবাবদিহি করবে।

এর কর্মসূচিকে এমন জাতীয় অধিকার রক্ষা করতে হবে, যা কোনো উপদলেরই বিসর্জন দেওয়ার অধিকার নেই। জায়নবাদী আধিপত্য থেকে ফিলিস্তিনের মুক্তি, প্রত্যাবর্তনের অধিকার, আত্মনিয়ন্ত্রণ, সমতা এবং ঔপনিবেশিক বসতি প্রত্যাখ্যানই হওয়া উচিত এর ভিত্তি।

রাজনৈতিক কাঠামো এবং প্রতিরোধের কৌশল নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে, এবং একটি সংস্কারকৃত পিএলও-কে সেই পার্থক্যগুলোকে দমন না করে সেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অসলোর পরিণতি মোকাবিলা করা, দখলদারদের সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের নামে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর জন্য স্পষ্ট জবাবদিহি নিশ্চিত করাও তাদের দায়িত্ব।

আন্তর্জাতিক পরিবেশ সতর্কতার যুক্তিকে আরও শক্তিশালী করে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরপরই যখন আমেরিকান আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জহীন মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই পিএলও অসলোতে প্রবেশ করে এবং ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল দ্বারা নির্ধারিত একটি কাঠামো মেনে নেয়। সেই হিসাব বিপর্যয় ডেকে এনেছিল।

আমেরিকান শক্তি এখনো বিশাল, কিন্তু তাদের প্রাধান্য এখন চীন, একটি সম্প্রসারিত ব্রিকস এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের উদীয়মান শক্তিগুলোর কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কৌশলগত অবস্থান এবং বাব আল-মানদেবে হুতিদের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতাকে উন্মোচিত করেছে।

এর কোনোটিই ফিলিস্তিনের মুক্তির নিশ্চয়তা দেয় না। তবে আমেরিকান আধিপত্য এবং শর্ত আরোপে ইসরায়েলের ক্ষমতা চিরকাল বজায় থাকবে—এমন ধারণার ওপর ভিত্তি করে স্থায়ী ছাড় দেওয়ার যে ঝুঁকি, তা এটি উন্মোচিত করে।

সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো এমন একটি রাজনৈতিক রূপরেখা তৈরি করা, যা ফিলিস্তিনিদের ঐতিহাসিক অধিকারের কথা বলবে এবং জাতিগত বা ধর্মীয় আধিপত্যহীন এক ভবিষ্যতের জন্য ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক দাবির সঙ্গে সুর মেলাবে।

অসলো চুক্তির ৩৩ বছর পর, ফাতাহ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে, বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করতে কিংবা ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। তবু এটি ফিলিস্তিনি ঐক্যের মূল্য হিসেবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতির দাবি করে যাচ্ছে। এটাই প্রমাণ করে, তার নেতৃত্ব অতীতের ব্যর্থ রাজনীতিতে কতটা আটকা পড়ে রয়েছে।

হামাস যদি এটি মেনে নেয়, তবে তা সেই ব্যর্থতাকে কেবল আরও ত্বরান্বিতই করবে। ফিলিস্তিনিদের মুক্তি, স্বাধীনতা এবং প্রত্যাবর্তনের তাগিদে ঐক্যের প্রয়োজন—জাতীয় অধিকার বিসর্জন দিয়ে কেনা ঐক্যের প্রয়োজন তাদের নেই।

সামি আল-আরিয়ান ইস্তাম্বুল জাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইসলাম অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক। মিডল ইস্ট আই থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।