বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং মৎস্যঘের থেকে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় নারীসহ অন্তত আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে এবং পুলিশ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নরসিংহপুর গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ বিদ্যমান ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি মৎস্যঘের থেকে মাছ ধরা নিয়ে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তেই এই বিবাদ হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এই রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে নারীসহ অন্তত আটজন আহত হন বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে সরিয়ে নেন। আহতদের মধ্যে খোকন মোল্লা (৫০), তার পুত্র সুমন মোল্লা (৩০) এবং স্ত্রী আফসানাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, খোকন মোল্লার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
অন্যদিকে, অপর পক্ষের রাসেল শেখ (২৫)-কে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া নবির শেখের ছেলে আশিকুল শেখ (৪০) এবং শহীদ মোল্লার তিন সন্তান রবিউল মোল্লা (২২), লিমা (২৪) ও সিমা (১২) বর্তমানে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জানা গেছে, আহত ব্যক্তিরা সকলেই উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামের বাসিন্দা।
এ বিষয়ে মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদৎ হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।”