ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের মোট ছয়টি সিটি করপোরেশনে ছয়জন প্রশাসক নিয়োগের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এই আদেশ প্রদান করেন।

আদালতের এই আদেশের ফলে নিয়োগপ্রাপ্ত ছয় প্রশাসক এখন থেকে স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।

ঘটনাটি শুরু হয় গত ২২ ফেব্রুয়ারি, যখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ ছয় সিটি করপোরেশনে ছয়জন পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগের একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের ছয়জন আইনজীবী আবেদনকারী হিসেবে গত ৪ মার্চ হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। আবেদনকারী আইনজীবীরা হলেন— মো. গোলাম কিবরিয়া, জিল্লুর রহমান, মো. আবু দাউদ নিজামী, মো. ইসমাঈল হোসেন, মো. আল মুত্তাকী বিল্লাহ এবং সাইফুল্লাহ খালেদ।

আজ বৃহস্পতিবার আদালতের কার্যতালিকায় ৪৭ নম্বরে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য ওঠে। শুনানিতে আবেদনকারী আইনজীবীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মো. গোলাম কিবরিয়া এবং রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।

শুনানির পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “রিট আবেদনটি প্রি-ম্যাচিউর বিবেচনায় আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন।” তিনি আরও জানান, “ফলে ছয় প্রশাসক স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।”

গত ২২ ফেব্রুয়ারির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যে ছয়জন প্রশাসক নিয়োগ পেয়েছেন তারা হলেন— ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মো. শফিকুল ইসলাম খান, খুলনা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেট সিটি করপোরেশনে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মো. শওকত হোসেন সরকার।

রিটের প্রার্থনায় আবেদনকারীরা জানতে চেয়েছিলেন, ছয় প্রশাসক নিয়োগের গত ২২ ফেব্রুয়ারির ‘মেমো’ কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং ওই মেমোর কার্যক্রম কেন স্থগিত করা হবে না। সেই বিষয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়।

এছাড়া রিটে ওই মেমো স্থগিত করার পাশাপাশি আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে সব সিটি করপোরেশনে মেয়র নির্বাচনের জন্য নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। এই রিট আবেদনে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং ছয়টি সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছিল।