আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সব পাঠ্যবই সরবরাহ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একই সঙ্গে পাঠ্যবই মুদ্রণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মাতুয়াইলে বর্ণমালা প্রেস এবং গ্লোবাল প্রিন্টিং ইকুইপমেন্ট পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি মুদ্রণপ্রক্রিয়া, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, কাগজের মান এবং বইয়ের ছাপার গুণগত মান সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে পুরোনো মেশিন ব্যবহার করে মুদ্রণকাজ করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আর কাজ দেওয়া হবে না।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সূত্রমতে, আগামী শিক্ষাবর্ষের প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপার কাজ চলছে। মাধ্যমিক স্তরে ছাপা হচ্ছে ২২ কোটির বেশি বই। প্রাথমিক স্তরের বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার। সব মিলিয়ে বই ছাপার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের বই ছাপাসহ সরবরাহের অগ্রগতি ভালো। তবে মাধ্যমিক স্তরে তুলনামূলক পিছিয়ে রয়েছে এই কাজ।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁদের লক্ষ্য, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বই ছাপার কাজ শেষ করে মাঠপর্যায়ে পাঠানো। কিছু মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান কয়েক দিন পিছিয়ে পড়তে পারে। তবে জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীরা সব বই হাতে পাবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরের ৯৩ শতাংশের বেশি বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে বাঁধাই, কাটিং ও প্রাক্-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) শেষে সরবরাহ করা হয়েছে ৮৫ শতাংশ বই। অন্যদিকে প্রথম দফায় দরপত্র হওয়া মাধ্যমিক স্তরের ২০ কোটি ৮৪ লাখের বেশি বইয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ ছাপার কাজ শেষ হয়েছে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত।

এ রকম পরিস্থিতিতে ৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক বই সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাঠ্যবই মুদ্রণের দায়িত্ব নেওয়ার অর্থ নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা। কাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকলে তা দরপত্রে অংশগ্রহণের আগেই বিবেচনায় নেওয়া উচিত। মুদ্রণযন্ত্রের সক্ষমতা বা কারিগরি সীমাবদ্ধতার অজুহাতে বইয়ের মানের সঙ্গে আপস করা যাবে না। সরকার যে মানের বই সরবরাহের জন্য কাজ দিচ্ছে, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।

বইয়ের ছাপার মান যাচাই করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী কয়েকটি বইয়ে রঙের বিন্যাস ও অ্যালাইনমেন্টের অসংগতি দেখতে পান। এ ধরনের ত্রুটি যেন উৎপাদিত বইয়ের বড় অংশে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করেন তিনি। পাশাপাশি মুদ্রণকাজের মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাঠ্যবইয়ের মান নিশ্চিত করতে শুধু কাজ সম্পন্ন করলেই হবে না, প্রতিটি বই নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী মুদ্রিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তাই এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা নিম্নমানের কাজ গ্রহণযোগ্য নয়।

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিদর্শনকালে এনসিটিবি ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট মুদ্রণপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।