বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার প্রবল আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ফাইনালে লড়াই করেছিল আর্জেন্টিনা। তবে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলে স্পেনের কাছে পরাজিত হয়ে স্বপ্নভঙ্গ হয় লিওনেল মেসি ও তার সতীর্থদের। সেই জয়সূচক গোলটি নিয়ে তিন মাসেরও বেশি সময় পর সামনে এল এক চমকপ্রদ তথ্য। স্পেনের হয়ে ওই গোলে সহায়তা করা নিকো উইলিয়ামস দাবি করেছেন, আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার ধাক্কা না পেলে তিনি বলের নাগালই পেতেন না। প্রতিপক্ষের সেই অনিচ্ছাকৃত সহায়তার ফলেই শেষ পর্যন্ত তৈরি হয়েছিল বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী গোলের সুযোগ।

সম্প্রতি স্প্যানিশ প্রতিষ্ঠান 'ফুটবল ইমোশন'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতিচারণা করেন নিকো। অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের এই উইঙ্গার সেখানেই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়সূচক গোলের পেছনের অজানা ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তার এই বক্তব্য প্রকাশ করেছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম 'এএস' এবং আর্জেন্টিনার 'টিওয়াইসি স্পোর্টস'।

গত ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক-নিউজার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও দীর্ঘ সময় ধরে গোলশূন্য ছিল দুই দল। তবে ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন।

গোলটির সূচনা হয়েছিল পেদ্রো পোরোর একটি ক্রস থেকে। বক্সের ভেতরে উড়ে আসা বলটি মাথা দিয়ে ফেরান তোরেসের দিকে বাড়িয়ে দেন নিকো উইলিয়ামস। এরপর প্রথম স্পর্শেই জোরালো শটে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করেন ফেরান। সেই গোলেই শেষ হয়ে যায় আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন।

তবে সেই হেড করার মুহূর্তেই মোলিনার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত সহায়তা পেয়েছিলেন নিকো। তার দাবি, আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারের ধাক্কা না থাকলে পোরোর ক্রসে তিনি মাথা ছোঁয়াতে পারতেন না। সাক্ষাৎকারে নিকো বলেন, ‘আমার মনে হয়, মানুষ এখনো বিষয়টা বুঝতে পারেনি। মোলিনা যদি আমাকে ধাক্কা না দিত, তাহলে ওই বলে আমি পৌঁছাতেই পারতাম না। হাজারবার চেষ্টা করলেও না।’

ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন এই স্প্যানিশ তারকা। তার ভাষায়, ‘বলটা নিচে নামছিল আর তখন মোলিনা আমাকে ধাক্কা দেয়। দুই হাত দিয়ে আমার সঙ্গে ধাক্কা লাগে। বল আসার সময় ভাবছিলাম, আমি কোনোভাবেই পৌঁছাতে পারব না। কিন্তু ধাক্কা খাওয়ার পর মনে হলো, এবার পারব।’

এরপর কেন নিজে গোলের চেষ্টা না করে ফেরানকে বল বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন নিকো। তিনি বলেন, ‘গোলে শট নেওয়ার মতো সময় ছিল না। তাই ভাবলাম, বলটা সেখানেই রেখে দিই। ঠিক তখনই ফেরান এসে গোল করে দিল।’

নিকোর বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখতে গিয়ে মোলিনা অনিচ্ছাকৃতভাবেই স্পেনকে বিশেষ সুবিধা করে দিয়েছিলেন। আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারের ধাক্কায় বলের নাগালে পৌঁছে যান নিকো, আর তার সেই হেড থেকেই আসে বিশ্বকাপের জয়সূচক গোল।

যদিও এটি নিকোর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনা। মোলিনার ধাক্কা না লাগলে নিশ্চিতভাবেই গোলটি হতো না কিংবা ম্যাচের ফলাফল ভিন্ন হতো—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তবে স্প্যানিশ উইঙ্গারের এই বক্তব্যে ফাইনালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটির একটি নতুন দিক সামনে এসেছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ ফাইনালে শুরুর একাদশে ছিলেন না নিকো। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে তিনি একবার বল জালেও পাঠিয়েছিলেন, তবে ফাউলের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। এরপরই ফেরানের জয়সূচক গোলে অ্যাসিস্ট করে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই উইঙ্গার।

অন্যদিকে, নাহুয়েল মোলিনার জন্য বিশ্বকাপ ফাইনালটি শেষ হয়েছিল চরম হতাশায়। আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি ম্যাচ শেষের বিশৃঙ্খলাকে কেন্দ্র করে শাস্তিও পান তিনি। ফাইনালের পর সাত ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পান এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার।