গত জুনে পেপ গার্দিওলার উত্তরসূরি হিসেবে ম্যানচেস্টার সিটির কোচিং দায়িত্ব গ্রহণ করেন এনজো মারেসকা। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই খেলোয়াড়দের পেনাল্টি অনুশীলনের বিষয়ে তাঁর একটি ভিন্নমত ছিল। কারাবাও কাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ব্রাইটনকে পেনাল্টি শুটআউটে ৪–৩ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করার পর কোচ মারেসকা সেই বিষয়টিই সামনে আনেন। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি (সিটিতে) আসার পর কখনো পেনাল্টি অনুশীলন করিনি।’
তবে ব্রাইটনের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের খেলাটি ২–২ গোলে ড্র হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটের কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হয় সিটিজেনদের। আর এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হতো না, অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সিটিকে বিদায় নিতে হতো, যদি না দ্বিতীয়ার্ধে নিশ্চিত একটি গোল ঠেকিয়ে দিতেন হেরোনিমো রুই। এই আর্জেন্টাইন গোলকিপারই শেষ পর্যন্ত শুটআউটে দলের জয় নিশ্চিত করে মারেসকার শিষ্যদের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে দেন।
দলের নিয়মিত গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে গোলপোস্ট আগলে ধরার সুযোগ পান রুই। পেনাল্টি শুটআউটে ব্রাইটনের শেষ দুটি শট দারুণভাবে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন তিনি। সিটির এই জয়ের পর মারেসকার কাছে জানতে চাওয়া হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ফর্ম নিয়ে সমালোচিত দোন্নারুম্মার মূল একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে রুই কি কোনো চাপ তৈরি করলেন?
এর জবাবে মারেসকা বলেন, ‘না, আমার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একদমই না। রুই জানে তার ভূমিকাটা কী। আগামী শনিবার দোন্নারুম্মার সঙ্গে ১০ জনই মাঠে নামবে।’ উল্লেখ্য, আগামী শনিবার প্রিমিয়ার লিগে পুনরায় এই ব্রাইটনের মুখোমুখি হবে সিটি।
২০১৬–১৭ মৌসুমে সিটিতে থাকলেও মূল একাদশে সুযোগ পাননি রুই। গত আগস্টে মার্শেই থেকে তিনি পুনরায় সিটিতে ফিরে আসেন। মূলত দোন্নারুম্মার ব্যাক-আপ গোলকিপার হিসেবে তাঁকে আনা হলেও এর পেছনে অন্য একটি বিশেষ কারণ ছিল। ৩৪ বছর বয়সী এই গোলকিপার পেনাল্টি ঠেকানোর বিশেষ দক্ষতার জন্য পরিচিত। ঠিক এই কারণেই মৌসুমের শুরু থেকে পেনাল্টি অনুশীলন না করেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পেল সিটি।
পেনাল্টি শুটআউটে সিটির পক্ষে গোল মিস করেন মাতেও কোভাচিচ। তবে তাকে নিয়ে কোচ মারেসকা সমর্থন জানান। তিনি বলেন, ‘কোভাচিচসহ পাঁচজনের পারফরম্যান্সে আমরা খুশি। ফুটবল মাঠে এটা প্রায়ই ঘটে—যে খেলোয়াড় নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল করেন, তিনিই আবার পেনাল্টি মিস করে বসেন।’
গত শনিবার অ্যাস্টন ভিলার কাছে হেরে চলতি প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের শতভাগ জয়ের ধারা হারিয়ে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পায় সিটি। সেই ম্যাচে দোন্নারুম্মার ভুলে ভিলার দ্বিতীয় গোলটি হজম করতে হয় তাদের। ম্যাচ শেষে মারেসকা নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে দোন্নারুম্মা, ‘কিছু ভুল করেছেন।’
দোন্নারুম্মার পরিবর্তে রুইয়ের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে মারেসকা বলেন, ‘পেনাল্টি ছাড়াও বিল্ডআপে সামগ্রিকভাবে সে বেশ ভালো করেছে। কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। কারণ, ওরা ম্যান-টু-ম্যান এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে।’
পেশাদার ক্যারিয়ারে রুই এ পর্যন্ত ২০টি পেনাল্টি সেভ করেছেন। যার মধ্যে ১৫টি নির্ধারিত সময়ে এবং বাকি ৫টি শুটআউটে। এর মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয় সম্ভবত ২০২১ সালের ইউরোপা লিগের ফাইনাল। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে শুটআউটে নিজের লক্ষ্যভেদ করার পর দাভিদ দে হেয়ার শট ঠেকিয়ে ভিয়ারিয়ালকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন রুই।
অন্যদিকে, অ্যানফিল্ডের মাঠে শেষ ষোলোর আরেকটি ম্যাচও টাইব্রেকারে গড়িয়েছে। চেলসি ও লিভারপুলের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ১–১ গোলে ড্র হয়। তবে পেনাল্টি শুটআউটে ৬–৫ গোলের ব্যবধানে জয় পায় লিভারপুল। ফলে অ্যানফিল্ডে প্রত্যাবর্তন খুব একটা সুখকর হলো না চেলসি কোচ জাবি আলোনসো ও মিডফিল্ডার জর্ডান হেনডারসনের, যারা উভয়েই লিভারপুলের সোনালি সময়ের খেলোয়াড় ছিলেন।
চেলসির বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটে টানা পঞ্চমবারের মতো জয় পেল লিভারপুল। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বর্তমান কোচ আন্দোনি ইরাওয়ালার সাবেক ক্লাব বোর্নমাউথ।