মাছ, মাংস, ডিম ও দুধের বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফা রোধে বাজার তদারকির সুপারিশ করেছে একটি সংসদীয় কমিটি। একইসঙ্গে এসব পণ্যের উৎপাদন খরচ যাচাই করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়।

বৈঠকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, এক কেজি গরুর মাংসের উৎপাদন খরচ বর্তমানে ৫৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। এছাড়া প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, এক কেজি সোনালি মুরগির উৎপাদন খরচ ২৫৩ টাকা এবং এক কেজি ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ ১৬১ টাকা ৫৫ পয়সা। একটি ডিম উৎপাদনের খরচ ধরা হয়েছে ১০ টাকা ৮১ পয়সা, এক কেজি দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪ টাকা ৮০ পয়সা এবং এক কেজি খাসির মাংসের উৎপাদন খরচ ৮৭৫ টাকা।

সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগগুলো যাচাই করার সুপারিশ করেছে কমিটি। এই লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বাজারভিত্তিক তদন্ত ও তদারকি কার্যক্রম চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের উৎপাদন ব্যয়, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য মন্ত্রণালয়ের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। ওই প্রতিবেদনে মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কিছু কার্যক্রমের কথা উল্লেখ ছিল। পাশাপাশি এক দিনের বাচ্চা ও ডিমের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই কৌশলপত্রের আওতায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সব অংশীজন সমন্বিতভাবে কাজ করবে, যাতে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। দুধ, মাংস ও ডিমের চাহিদা ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত সভার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত সদস্যরা অভিযোগ করেন যে, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম অত্যধিক বেশি এবং অনেক ক্ষেত্রে তা উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক বেশি। তবে এর জবাবে বলা হয়, উৎপাদনকারীরা যথাযথ মূল্য পাচ্ছেন কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, কারণ তারা সরাসরি খুচরা বাজারে পণ্য বিক্রি করেন না; পণ্যগুলো কয়েক হাত বদল হয়ে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই কমিটির পক্ষ থেকে “মাছ, মাংস, ডিম, দুধের দাম উৎপাদন খরচের তুলনায় বেশি কি না, সেটা যাচাই করে দেখার সুপারিশ করা হয়।”

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদন বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠা, জলাশয়ে অভয়াশ্রম তৈরি এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে খামারিদের সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি বাজার তদারকি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সামুদ্রিক মৎস্য অনুসন্ধান, আহরণ এবং রপ্তানির আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে কমিটিতে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শেখ মো. রেজাউল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, এম এ হান্নান, আলী আজম মো. আবু বকর ও মো. আমির হামজা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতির বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ।