দিনের শুরুতে কাজাখস্তানের কাছে হেরে সোনা জয়ের স্বপ্ন ভেঙেছিল বাংলাদেশের পুরুষ আর্চারদের। তবে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে দিল নারী দল। শুরু থেকেই দাপুটে পারফরম্যান্সে কাজাখস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপ আর্চারিতে সোনার পদক জিতেছেন বন্যা আক্তার, শ্রীপর্ণা বিশ্বাস ও কুলসুম আক্তার মনি। চার রাউন্ডের প্রতিটিতেই এগিয়ে থেকে ১০ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশের তিন আর্চার।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইরাকের সুলাইমানিয়াহতে এশিয়া কাপ ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্বে নারীদের কম্পাউন্ড দলগত ইভেন্টের ফাইনালে কাজাখস্তানকে ২৩০-২২০ স্কোরে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে আসরে প্রথম সোনার পদক জিতেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ফাইনালের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বাংলাদেশের তিন আর্চার। প্রথম রাউন্ডে ৫৭-৫৫ স্কোরে এগিয়ে যান বন্যা-শ্রীপর্ণারা। দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেন তাঁরা। এই রাউন্ডে কাজাখস্তান ৫২ পয়েন্ট তুললেও বাংলাদেশ অর্জন করে ৫৭ পয়েন্ট। ফলে প্রথম দুই রাউন্ড শেষে সাত পয়েন্টের সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

তৃতীয় রাউন্ডেও প্রতিপক্ষকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেননি বাংলাদেশের আর্চাররা। এবার ৫৮-৫৬ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ব্যবধান বাড়িয়ে নেন নয় পয়েন্টে। শেষ রাউন্ডেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন বন্যা-শ্রীপর্ণা-মনি। ৫৮-৫৭ স্কোরে চতুর্থ রাউন্ড নিজেদের করে নিয়ে ২৩০-২২০ ব্যবধানে সোনার পদক নিশ্চিত করেন তাঁরা।

এর আগে সেমিফাইনালেও দাপট দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কাকে ২৩৩-২১৯ স্কোরে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় বন্যাদের দল। অন্যদিকে স্বাগতিক ইরাকের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের পর শুটঅফে জিতে ফাইনালে ওঠে কাজাখস্তান। নির্ধারিত চার রাউন্ড শেষে দুই দলের স্কোর ছিল ২১৭-২১৭। পরে শুটঅফে ২৯-২৭ ব্যবধানে জয় পায় কাজাখস্তান।

নারীদের কম্পাউন্ড দলগত ইভেন্টে অংশ নিয়েছিল মাত্র চারটি দেশ। ফলে সরাসরি সেমিফাইনাল থেকেই শুরু হয় পদকের লড়াই। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে স্বাগতিক ইরাককে ২১৯-২১৮ স্কোরে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছে শ্রীলঙ্কা।

এবারের প্রতিযোগিতায় শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বন্যা আক্তার। বাছাইপর্বে ৬৯৬ পয়েন্ট অর্জন করে নারীদের ব্যক্তিগত কম্পাউন্ড ইভেন্টে শীর্ষস্থান দখল করেন তিনি। একই ইভেন্টে ৬৮১ পয়েন্ট করে চতুর্থ ও পঞ্চম হন যথাক্রমে শ্রীপর্ণা বিশ্বাস ও কুলসুম আক্তার মনি। দলগত বাছাইপর্বেও শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ।

এদিকে শুধু দলগত ইভেন্ট নয়, ব্যক্তিগত কম্পাউন্ডেও সোনার পদক জয়ের সুযোগ রয়েছে বন্যার সামনে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সেমিফাইনালে স্বদেশি কুলসুম আক্তার মনিকে ১৪২-১৪১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সোনার লড়াইয়ে তাঁর প্রতিপক্ষ কাজাখস্তানের মিলানা বুরলেভা।

এর আগে দিনের শুরুতে পুরুষদের কম্পাউন্ড দলগত ইভেন্টের ফাইনালে কাজাখস্তানের কাছে ২৩০-২২৪ স্কোরে হারে বাংলাদেশ। হিমু বাছাড়, তরিকুল ইসলাম ও রাকিব নেওয়াজ আহমেদকে নিয়ে গড়া দলটি রুপা জেতে। প্রথম দুই রাউন্ডে পিছিয়ে পড়ার পর শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ব্যবধান ঘোচাতে পারেননি তাঁরা।

তবে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে সোনার পদক জেতায় বাংলাদেশের আর্চারি শিবিরে ফিরেছে স্বস্তি। পুরুষ দলের রুপার পর নারী দলের হাত ধরে এসেছে সোনার পদক। সামনে আরও পদক জয়ের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের।

বৃহস্পতিবার পুরুষদের রিকার্ভ দলগত ইভেন্টের ফাইনালেও কাজাখস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আবদুর রহমান আলিফ, সাগর ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল মোহাম্মদ রাফিকে নিয়ে গড়া দলটি সেমিফাইনালে উজবেকিস্তানকে ৬-০ সেট পয়েন্টে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। ফলে সুলাইমানিয়াহতে বাংলাদেশের সামনে আরও একটি সোনার পদক জয়ের সুযোগ থাকছে।