কারো সঙ্গে হুট করে পরিচয় হলো, প্রথম কয়েকদিন কথা বলে বেশ ভালো লাগলো। প্রতিদিন নিয়ম করে কথা না বললে ভালো লাগছে না, হয়তো ভাবছেন জীবনসঙ্গী হিসেবে এই মানুষটিই আপনার জন্য একদম পারফেক্ট- এমন অনুভূতি আমাদের অনেকের সঙ্গেই ঘটে। মাত্র কয়েকবার কথা হয়েছে বা একটু দেখাসাক্ষাৎ হয়েছে, আর তাতেই তার সঙ্গে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনতে শুরু করে দিলেন!

কোনো মানুষের প্রতি এই ধরনের আকর্ষণ জন্ম নেওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যা হলো, এই প্রাথমিক মুগ্ধতা বা ভালো লাগার আবেশে গা ভাসিয়ে দেওয়ার আগে একটু সময় নিয়ে মানুষটাকে জানা খুব জরুরি। প্রেমে পড়ার মুহূর্তের সেই মিষ্টি কথাগুলোর বাইরেও আরও অনেক বিষয় থাকে, যেগুলো সম্পর্ক শুরু করার আগে আপনার জানা দরকার।

তাড়াহুড়ো করে আবেগপ্রবণ হয়ে সম্পর্কে জড়ানোর আগে কোন ৫টি বিষয় একটু ভালোভাবে খেয়াল করবেন, জেনে নিন-

কথার সঙ্গে কাজের মিল আছে তো?

অনেক সময় দেখা যায় সামনে থাকা মানুষটা খুব মিষ্টি মিষ্টি কথা বলছে। কথায় গলে না গিয়ে মানুষটার কাজকর্মে নজর দিন, তার আচরণ খেয়াল করুন। সে যা বলছে তা তার কাজে কতটুকু প্রকাশ পাচ্ছে- এই বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। মিষ্টি কথা বলার চেয়েও কাজের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ করা সম্পর্কে বেশি জরুরি।

ধরুন, হয়তো সে আপনাকে বলছে আপনার সঙ্গে দেখা না করলে তার ভালো লাগে না, আপনি তার দিনটিকে সুন্দর করে দেন। কিন্তু কথাগুলো কি শুধু মুখেই থেকে যাচ্ছে, নাকি সে সত্যি আপনার সঙ্গে দেখা করার জন্য আলাদাভাবে সময় বের করছে, এই বিষয়টি খেয়াল রাখুন। তার কাজ এবং আন্তরিক আচরণগুলোই বলে দেবে সে মানুষ হিসেবে কেমন।

আপনার ব্যক্তিগত মতামতকে সম্মান করছে কি?

যেকোনো সম্পর্কের শুরুর দিকেই বোঝা যায় মানুষটা আপনার মতামত বা ব্যক্তিগত সীমানাকে কতটা গুরুত্ব দেয়। ধরুন, আপনি কোনো একটা বিষয়ে তার সঙ্গে একমত হতে পারলেন না, কোনো প্রস্তাবে সরাসরি ‘না’ বলে দিলেন। তখন তার প্রতিক্রিয়া কেমন হয় সেটি খেয়াল করা খুবই জরুরি।

সে কি আপনার সিদ্ধান্তকে সম্মানের সঙ্গে মেনে নিচ্ছে, নাকি আপনার উপর তার নিজের সিদ্ধান্তকে চাপিয়ে দিচ্ছে- এই বিষয়টিই কিন্তু বলে দেয় সে জীবনসঙ্গী হিসেবে কেমন হবে। আপনার ‘না’ কে মেনে নেয়ার ধরনই বলে দেয় ভবিষ্যতে তার সঙ্গে আপনার বোঝাপড়া কেমন হতে পারে।

তার সামনে আপনি নিজের মতো করে থাকতে পারছেন কি না

মানুষ স্বাভাবিকভাবেই তার পছন্দের মানুষকে একটু বেশি ইমপ্রেস করতে চায়। কিন্তু তার মানে এই না যে আপনার আসল সত্ত্বাটাকেই তার থেকে আড়াল করে ফেলবেন। সে যে জিনিসগুলো পছন্দ করে, শুধু তাকে খুশি করার জন্য আপনাকেও সেগুলো করতে হবে বা নিজের মতামতগুলো চেপে রাখতে হবে- এমন পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়।

তার কাছাকাছি গেলে আপনার ভেতর কোনো অযথা ভয় কাজ করছে কি না বা আপনি নিজেকে নিজের মতো করে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন কি না সেদিকে খেয়াল রাখুন। আপনার সঙ্গী আপনাকে কীভাবে দেখছে, যদি সেই সমালোচনার ভয়ে সবসময় কুঁকড়ে থাকেন, তাহলে সে সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী রূপ না দেয়াই ভালো হবে।

দুজনের চাওয়ার মিল আছে কি?

দুজনের ভবিষ্যৎ ভাবনা বা চাওয়ার মিল আছে কি না- শুধুমাত্র তা পরিষ্কার করে না জানার কারণে অনেকেই ভুল মানুষের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। হয়তো আপনি সম্পর্কটাকে স্থায়ী করতে চাচ্ছেন, অন্যদিকে সামনের মানুষটার মানসিকতা একদম ক্যাজুয়াল বা হালকা ধরনের। আবার ধরুন, আপনি খুব দায়িত্ববান জীবনসঙ্গী চান, কিন্তু অপর প্রান্তের মানুষটার মধ্যে গা ছাড়া ভাব অনেক বেশি।

এখানে দুজনের কেউই হয়তো ভুল না, কিন্তু দুজনের চাওয়ার এই ব্যবধানটা এড়িয়ে গেলে পরবর্তীতে তা বড় ধরনের মানসিক কষ্ট ও হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই নিজেদের প্রত্যাশা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা অনেক বেশি জরুরি।

মানুষটাকে ভালো লেগেছে, নাকি তার ধারণাকে?

অনেক সময় আমরা আসলে মানুষটাকে ভালোবাসার পরিবর্তে তাকে নিয়ে আমাদের মনে যে একটা সুন্দর কাল্পনিক ছবি তৈরি হয়, সেটার প্রেমে পড়ে যাই। হয়তো তার সেন্স অফ হিউমার বা আপনার সঙ্গে কথা বলার ভঙ্গি আপনার ভালো লেগেছে, কিন্তু সে রাগের মাথায় কেমন আচরণ করে বা কোনো কঠিন পরিস্থিতি কীভাবে সামলায় সেদিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এখানেই বড় ভুলটা করছেন।

তাই তাড়াহুড়ো না করে একে অন্যকে জানার জন্য সময় নিন। ছোট ছোট কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে হয়তো ভবিষ্যতের বড় ধরনের ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া