ভারতের পদুচেরির ইয়ানাম উপকূল দিয়ে স্থলভাগে আছড়ে পড়তে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। গতি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই বুধবার ভোররাত থেকেই ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করে। এই ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাবে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়া। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই খবরের কথা জানিয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত গতিতে অগ্রসর হচ্ছে। যার ফলে বুধবার ভোররাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যবর্তী সময়েই এটি স্থলভাগে আঘাত হানতে শুরু করে। আবহাওয়া বিভাগের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা এবং বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করবে বলে জানা গেছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আঘাত হানার আগেই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু বলেন, “দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রাজ্যে ২ হাজার ১৯৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ঝড়ের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়।”

বিশেষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ২ হাজার ৩৬০ জন অন্তঃসত্ত্বাকে নিরাপদে বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো জরুরি পরিস্থিতিতে যেন তাঁদের চিকিৎসার কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার এবং দুর্যোগ চলাকালীন প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ‘অর্ণব’ এখন একটি ‘অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে’ (ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম) রূপ নিয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কেবল অন্ধ্রপ্রদেশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। ঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র দমকা হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। রাজ্যের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জনপ্রিয় দিঘা সমুদ্রসৈকতে বঙ্গোপসাগর অত্যন্ত উত্তাল রূপ ধারণ করেছে এবং সৈকতজুড়ে প্রচণ্ড বেগে ঝড়ো হাওয়া বইছে। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে স্থানীয় প্রশাসন এবং পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।