চলতি বছরের প্রথম নয় মাস শেষে ব্যবসায়িক পরিধি বাড়লেও লোকসানের বোঝা আরও বেড়েছে ইলেকট্রনিকস পণ্য প্রস্তুতকারক বিদেশি প্রতিষ্ঠান সিঙ্গার বাংলাদেশের। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কোম্পানিটির মোট ব্যবসা বৃদ্ধি পেলেও চূড়ান্ত হিসাবে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৯ কোটি টাকায়। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই চিত্র উঠে এসেছে।
গতকাল সোমবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের এক সভায় এই অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হয়। যেহেতু সিঙ্গার বাংলাদেশ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান, তাই নিয়ম অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার দেশের দুটি স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শেয়ারধারীদের এই প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো অবহিত করা হয়েছে।
আর্থিক প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্যানুসারে, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে সিঙ্গার বাংলাদেশ ১ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকার ব্যবসা সম্পন্ন করেছে। বিপরীতে গত বছরের একই সময়ে তাদের ব্যবসার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যবসা ৭৩ কোটি টাকা বা ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবসার এই প্রবৃদ্ধির ফলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন মুনাফাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে সিঙ্গার প্রায় ৯৭ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৯১ কোটি টাকা।
তবে এই পরিচালন মুনাফা চূড়ান্ত হিসাবের পর বড় ধরনের লোকসানে পরিণত হয়েছে। মূলত ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ, সরকারি কর পরিশোধ এবং শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের বিপুল ব্যয়ের কারণে কোম্পানিটি মুনাফায় ফিরতে পারেনি।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংকঋণের সুদাসল বাবদ সিঙ্গার বাংলাদেশের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৫ কোটি টাকায়, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৯২ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এই খাতে খরচ বেড়েছে ১৩ কোটি টাকা। পাশাপাশি, শ্রমিক কল্যাণ তহবিল খাতে গত ৯ মাসে কোম্পানিটির ব্যয় হয়েছে ১০৮ কোটি টাকা, যেখানে গত বছর একই সময়ে এই ব্যয় ছিল ১০১ কোটি টাকা। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে কর বাবদ সরকারকে ১১ কোটি টাকা প্রদান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব ব্যয় নির্বাহের পর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে সিঙ্গারের মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১১৯ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই লোকসানের পরিমাণ ছিল ১১৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে কোম্পানির লোকসান ৪ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
লোকসানের কারণ ব্যাখ্যা করে কোম্পানিটি জানিয়েছে, “মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় পণ্য বিক্রি আশানুরূপ বাড়েনি কোম্পানিটির। এ ছাড়া উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজার বাস্তবতার কারণে পণ্যের দাম বাড়ানো সম্ভব হয়নি।” প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এসব প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে বিক্রি কিছুটা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত মুনাফায় ফেরা সম্ভব হয়নি।