রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান বাজারে বিএনপি ও যুবদল নেতার অনুসারীদের হুমকির মুখে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি সারের দোকান পুনরায় চালু করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল হকের বিশেষ নির্দেশে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে ডিলার সাইদুর রহমান তাঁর দোকানটি খোলেন। দোকান খোলার পর সংসদ সদস্য মুঠোফোনের মাধ্যমে ডিলারের সঙ্গে কথা বলেন।
এই পুরো প্রক্রিয়ার সময় পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেনসহ দলটির বেশ কয়েকজন নেতা ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পুনরায় সার বিক্রি শুরু হয়। উল্লেখ্য, গতকাল বিএনপি ও যুবদল নেতার অনুসারীদের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হলে তিনি দোকানটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।
সাইদুর রহমান হলেন হরিয়ান বাজারের ‘সাইদুর এন্টারপ্রাইজের’ স্বত্বাধিকারী এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) অনুমোদিত একজন ডিলার। এর পাশাপাশি তিনি দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর ধরে হরিয়ান বাজার কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ৫ এপ্রিল। কৃষকদের মাঝে বিতরণের জন্য নেওয়া ৩০ বস্তা ইউরিয়া সার পথে আটকে দেন হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রজব আলী ও যুবদল নেতা আব্দুস সালাম। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের বিরুদ্ধে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং মারধরের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন সাইদুর রহমান। সেই মামলায় গত সোমবার দুই নেতাকে কারাগারে পাঠানোর পর তাঁদের অনুসারীদের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়, যার ফলে দোকানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সাইদুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “দোকান বন্ধ রাখার হুমকির বিষয়ে তিনি সংসদ সদস্য শফিকুল হকসহ (মিলন) জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছিলেন। পরে মঙ্গলবার সকালে পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন তাঁকে ফোন করে দোকান খুলতে বলেন। এরপর তিনি বাজারে এসে বিএনপির নেতা–কর্মীদের সহযোগিতায় দোকান খোলেন।”
বিএনপি নেতা আলী হোসেন এই বিষয়ে জানান, সারের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় আগের দিন নেতাদের মধ্যে আলোচনা হয়। তাঁদের কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশও করেন। পরে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল হকের নির্দেশে দলের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ করে ডিলারকে দোকান খোলার বিষয়ে সহযোগিতা করা হয়। তিনি আরও বলেন, “সার বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। কৃষকেরা যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে ডিলারকে সতর্ক থাকতে হবে।”
আজ সকালে হরিয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায় সাইদুর রহমানের দোকানটি বন্ধ। সাধারণত প্রতিদিন সকাল আটটায় তিনি দোকান খোলেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, রজব আলীর অনুসারীরা ঝামেলা করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় সাইদুর রহমান দোকান বন্ধ রেখেছিলেন। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল থেকেই দোকানের পাশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দোকানটি খোলা হয়।
কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “ডিলারের করা মামলায় দুজনকে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ডিলারের দোকানের সামনে ঝামেলা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ ছিল না। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।”