শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক আইন ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতন করতে দেশের বিভাগীয় শহর, সিটি করপোরেশন এবং জেলা শহরগুলোতে পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি সম্পূরক বই প্রদান করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টাঙ্গাইলে অবস্থিত মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত 'রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ' শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ভালোভাবে এর ব্যবহার শিখতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক সময় ভুল উত্তর দিতে পারে। যে বিষয়ে নিজের ধারণা স্পষ্ট নয় সে বিষয়ে এআইয়ের ভুল ধরাও কঠিন। তাই, নিজের বিষয়ের ভিত্তি মজবুত করে গড়ে তুলতে হবে।”
দেশের বিশাল জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, “বাংলাদেশ বিপুল জনসংখ্যার একটি দেশ। এই জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষাখাতে জিডিপির দুই শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই বাজেটকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। বরাদ্দকৃত অর্থের যেন কোন অপচয় না হয়, সেদিকে সকলকে লক্ষ্য রাখতে হবে।”
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ বি এম শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল-২ আসনের এমপি মোঃ আবদুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৭ আসনের এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ ও সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ আনিসুর রহমান।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষক এবং ১৯ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী স্বয়ং তাদের হাতে সম্মাননার ক্রেস্ট তুলে দেন।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইগুলো যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, পাঠ্যপুস্তকের মানের বিষয়ে কোনো ধরনের আপোষ করা হবে না।
নতুন বই সংযোজনের বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ৪টি নতুন বই দেয়া হবে। সেগুলো হলো- চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য 'বাংলাদেশের সংস্কৃতি' ও 'খেলাধুলা' এবং ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' ও 'আমার কারিগরি শিক্ষা'।”