বিএনপির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। তাঁর দাবি, দলের নেতাকর্মীদের মূলত চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যেই রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাচালকদের কাছ থেকেও এখন চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলেন হান্নান মাসউদ। সেখানে তিনি বলেন, “চাঁদাবাজি ও ধান্দাবাজি করে তারেক রহমান বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছেন। তিনি নিজের মন্ত্রিপরিষদকে সামলাতে পারেন না। তাদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তাদের সংসদ সদস্যদের হাত থেকে চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানও রেহাই পাচ্ছে না।”

বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলে তিনি বলেন, “বিএনপির বিকল্প আওয়ামী লীগ, আর আওয়ামী লীগের বিকল্প বিএনপি। বাস্তবে এটা সন্ত্রাসের বিকল্প আরেক সন্ত্রাসী দল, গুমের বিকল্প আরেক গুমের দল এবং চাঁদাবাজির বিকল্প আরেক চাঁদাবাজির দল। আমরা এ ধরনের কোনো দলের বিকল্প হিসেবে রাজপথে নামিনি; আমরা নেমেছি এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের বিকল্প দল হিসেবে।”

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ করে হান্নান মাসউদ বলেন, “আমরা যখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলাম, তখন সুশীল সমাজের একটি অংশ আমাদের বলতো— ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে ১০ শতাংশ কমিশন না দিলে কাজ হতো না, এখন তোমরা খাল কেটে কুমির আনছ। আমরা তখন বুঝতে পারিনি। সত্যিই আমরা খাল কেটে এমন এক কুমির এনেছি, যেখানে আগে ছিল ১০ শতাংশ, আর এখন তা দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশে।”

প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর এবং সফরসঙ্গীদের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিদেশে সফরের সময় কেমন বিশেষজ্ঞ সাথে নিচ্ছেন? তিনি মনে করেন, তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রী হলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, সীমান্ত বিশেষজ্ঞ, সার্বভৌমত্ব বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের সফরসঙ্গী হিসেবে নিতেন। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জামায়াত বিশেষজ্ঞ, বিএনপি বিশেষজ্ঞ ও সরকারবিরোধী দলকে গালিগালাজ করতে পারা ধান্দাবাজ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সফর করছেন এবং দেশের অর্থ অপচয় করছেন।

বিএনপির শাসনকালের কথা স্মরণ করে হান্নান মাসউদ বলেন, ১৯৯১ সালে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপির হাতে ক্ষমতা অর্পণ করেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় এসেই তারা ভোট কারচুপির পরিকল্পনা শুরু করে এবং ১৯৯৬ সালে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখতে চেয়েছিল, যা সাধারণ মানুষ মেনে নেয়নি। এরপর ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করে তারা দুঃশাসন চাপিয়ে দেয়, যার চরম খেসারত হিসেবে দেশকে দীর্ঘ ১৭ বছর দুঃশাসন সহ্য করতে হয়েছে।

নেতৃত্বের ব্যর্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা নিজ দলের সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি বা কেন্দ্রীয় নেতাদের তো বটেই, এমনকি ১৭ বছর ধরে নিজেদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও নিরাপত্তা ও সুচিকিৎসা দিতে পারেনি। তারা এখন বড় বড় কথা বলছে যে এ দেশের আন্দোলন নেতৃত্ব দিয়ে মানুষকে মুক্ত করেছে। অথচ সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ নিজেদের অসন্তোষ থেকে ছাত্র-জনতার আহ্বানে রাজপথে নেমেছিল, বিএনপির ডাকে নয়।”

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলে হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেন, সবচেয়ে বেশি মাদক কারবার এবং দিনদুপুরে ৬০-৭০টি গাড়িতে ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সালাউদ্দিন আহমেদের জেলায় সংঘটিত হয়েছে। তাঁর দাবি, এই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করে বরং আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, যাতে পুনরায় কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া যায়।

সবশেষে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বিতর্কিত করার চেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ গণভোটের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন, উচ্চকক্ষ, নিম্নকক্ষ ও শাসনব্যবস্থা কেমন হবে তার রায় দিয়েছে। কিন্তু তারা সেই রায় বদলে নিজেদের পছন্দমতো লোককে প্রধান বানিয়ে জনগণের ভোটাধিকার হরণের চক্রান্ত করছে। একই সঙ্গে সারের লাইসেন্স, ডালের লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা দলের ক্যাডার ও লাঠিয়াল বাহিনীকে দেওয়া হচ্ছে।