কিশোরগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ইমরান হাসান নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এতে ওই বাড়ির বসতঘরসহ মোট তিনটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ঘটনাটি মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার প্যারাভাঙ্গা এলাকায় সংঘটিত হয়। জানা গেছে, এর আগের দিন সোমবার সন্ধ্যায় একই এলাকায় পাওনা টাকার দাবি জানানোর সময় ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান ৩৫ বছর বয়সী ইমরান হাসান।

নিহত ইমরান হাসান সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের মধ্য কাতিয়ারচর এলাকার মৃত আব্দুস শহীদের ছেলে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন প্যারাভাঙ্গা এলাকার নূর ইসলামের ছেলে ৩০ বছর বয়সী আবুল কালাম।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আবুল কালামের কাছে পাওনা দুই হাজার ৪০০ টাকা ফেরত চাইতে যান ইমরান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। তর্কের এক পর্যায়ে আবুল কালাম হঠাৎই ছুরি দিয়ে ইমরানের ওপর হামলা চালান, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জের নতুন জেলখানা মোড়ে এক মানববন্ধনের আয়োজন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেখানে তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তবে মানববন্ধনের পর উত্তেজিত হয়ে একদল লোক অভিযুক্ত আবুল কালামের বাড়িতে আক্রমণ করে। তারা সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করে, যার ফলে বসতঘরসহ তিনটি ঘর পুড়ে যায়।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া এই বিষয়ে জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।