নড়াইল সদর উপজেলায় বিষধর সাপ ধরে খেলা দেখাতে গিয়ে কামড়ে আহত হয়েছেন গোলাম রব্বানী (৬২) নামের এক ব্যক্তি। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের বুড়িখালী এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহত অবস্থায় তিনি নিজেই সাপটিকে ব্যাগে ভরে নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। বর্তমানে তিনি শারীরিক ভাবে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
জানা গেছে, গোলাম রব্বানী বুড়িখালী এলাকার একজন স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন কৃষক হলেও শখের বশে প্রায়ই সাপ ধরেন এবং লোকজনকে তা দিয়ে খেলা দেখান।
গোলাম রব্বানী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দুপুরে রব্বানীর প্রতিবেশী চাচা হান্নান খানের বাড়ির রান্নাঘরে দুটি গোখরা সাপ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এরপর সাপ ধরার জন্য রব্বানীকে সেখানে ডাকা হয়। তবে রব্বানী পৌঁছানোর আগেই উপস্থিত লোকজন একটি সাপ মেরে ফেলেন। পরবর্তীতে তিনি সেখানে গিয়ে অন্য সাপটিকে ধরে ফেলেন।
সাপটি ধরার পর তিনি বাড়ির পাশের একটি দোকানে যান এবং সেখানে উপস্থিত লোকজনকে সাপটি দিয়ে খেলা দেখান। সেই সময় সাপটিকে পুনরায় ব্যাগে ঢোকানোর প্রচেষ্টায় সেটি তাঁর হাতে কামড় দেয়। এরপর তিনি সাপটিকে ব্যাগে ভরেই দ্রুত নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ছুটে যান।
হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে থাকা গোলাম রব্বানী সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ওই সাপটারে ব্যাগে কইরে ধইরে আনিছি। এরপর এক দোকানে আইসে পান-টান খায়ে খেলা দেহাইছি। পরে সাপ ব্যাগে ঢুকোনোর সুমায় আমারে কামড় দেছে। সাপ সাথে করে হাসপাতালে আনিছিলাম, এহেনি সবাই ভয় পাচ্ছে বলে সাপ বাড়ি পাঠায় দিছি।”
নড়াইল জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক শারমিন শর্মি জানান, সাপে কামড়ানোর মাত্র আধাঘণ্টার মধ্যেই গোলাম রব্বানী হাসপাতালে এসেছিলেন। তিনি মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “তিনি তখনো সুস্থই ছিলেন। তারপরও সাপটি যেহেতু বিষধর, তাই অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”