ইলিশ আহরণের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে জেলেদের বিনোদনের সুযোগ করে দিতে এবং মা ইলিশ সংরক্ষণে তাদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বরগুনায় এক বিশেষ লোকজ গানের আসর ও বনভোজনের আয়োজন করা হয়েছে। ‘রুপালি গলুই’ শীর্ষক এই উৎসবে জারি, সারি ও বাউল গানের সুরে মেতে ওঠেন দুই শতাধিক জেলে।
গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৯টায় বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের পায়রা নদীর তীরে অবস্থিত জেলেপল্লিতে এই উৎসবের সূচনা হয়। রাতভর চলে গানের আসর, যা জেলেদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করে।
মূলত নদী ও সাগরের মাছ ধরে জীবনধারণ করেন বরগুনার জেলেরা। মা ইলিশের প্রজনন প্রক্রিয়াকে নির্বিঘ্ন করতে সরকার গত ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই নির্দিষ্ট সময়ে জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে হয়। এই নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে মেনে চলতে উৎসাহিত করতে, মা ইলিশ সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরি করতে এবং জেলেদের অবসরে বিনোদনের ব্যবস্থা করতে মৎস্য বিভাগ এই উৎসবের আয়োজন করে।
উৎসবে পরিবেশিত জারি, সারি ও বাউল গানের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে পায়রা নদীর তীর। শিল্পীদের চমৎকার পরিবেশনা মুগ্ধ হয়ে শোনেন উপস্থিত জেলেরা এবং গানের তালে তালে তারা আনন্দে মেতে ওঠেন।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া জেলেরা জানান, ৮ অক্টোবর থেকে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় গত ২২ দিন ধরে তারা অনেকটা অলস সময় কাটাচ্ছিলেন। মাছ ধরতে না পারায় সংসার চালানোয় তারা বেশ কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছেন। এই পরিস্থিতির মাঝে রাতভর গানবাজনা ও বনভোজনের এমন আয়োজন তাদের মনে আনন্দ জোগিয়েছে। তারা সারারাত ধরে জারি, সারি ও বাউল গান উপভোগ করেন। এই আয়োজনটি তাদের খুব ভালো লেগেছে বলে তারা জানান। আগামী ২৯ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে তারা আবারও নদী ও সাগরে মাছ ধরতে যাবেন, এই আশাতেই দিন গুনছেন তারা।
বরগুনা সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার বলেন, “নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা যাতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকেন, সে জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে মৎস্য বিভাগ কাজ করছে।” তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান জেলেদের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে উৎসাহিত করবে। তার মতে, ইলিশের উৎপাদন বাড়লে জেলেদের ভাগ্য উন্নয়নের পাশাপাশি ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ প্রবাদটিও আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণে জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাদের অবসরকে আনন্দময় করে তুলতে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘রুপালি গলুই’ বরগুনার জেলেদের একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব।
উল্লেখ্য যে, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিপণন ও মজুত নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। মূলত মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখা এবং ইলিশের সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।