দীর্ঘদিনের বৈষম্য এবং কর্মক্ষেত্রে ক্রমাগত শোষণের বিরুদ্ধে এবার সোচ্চার হলো বাংলা ব্যাকরণের পদগুলো। নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এবং বিদ্যমান বৈষম্যের প্রতিবাদে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন স্বঘোষিত সমিতি—'আমরা খাঁটি আ-পদ'। মাহাবুবা শারমিন নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ওই পোস্টটি সবার সামনে তুলে ধরেছেন।

ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে পদগুলোর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, “বন্ধুরা, আমরা বাংলা ব্যাকরণে পদ হিসেবে সেই আদিকাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু জন্মের পর থেকেই শিকার হয়ে আসছি নানাবিধ বৈষম্যের।”

অভিযোগ করা হয়েছে যে, বাক্য গঠন থেকে শুরু করে অর্থের ভার বহন—সব কাজেই তাদের অপরিহার্য ভূমিকা থাকলেও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ বরাবরই উদাসীন। পদগুলোর অভ্যন্তরীণ কষ্টের কথা বর্ণনা করে বলা হয়েছে, “আমাদের ছয় ভাই-বোনের মধ্যে বিশেষ্যকে সব সময় নামের ভার বহন করতে হয়। অথচ নামের সঙ্গে বদনামও জোটে বিনাশ্রমে। বিশেষণকে অন্যের গুণ বর্ণনা করতে করতে নিজের গুণ বিসর্জন দিতে হয়। ক্রিয়াকে দিয়ে দিনরাত কাজ করানো হলেও সেই কাজের কৃতিত্ব জোটে কিনা অন্যের ভাগ্যে। সর্বনামকে অন্যের নাম আড়াল করতে গিয়ে নিজের বাপ-দাদার অস্তিত্ব বিসর্জন দিতে হয়। অব্যয় কোনো পরিবর্তন না হওয়ার অপরাধে হয় প্রতিনিয়ত তুচ্ছতাচ্ছিল্যের শিকার। আর অব্যয়ের কাজিন অনুসর্গ? বেচারা সব সময় অন্যের পেছনে বসে থাকে। আগে বসার অধিকারটুকুও আজ পর্যন্ত সে অর্জন করতে পারেনি।”

এই চরম হতাশাজনক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, এমতাবস্থায় তারা পঞ্চপদ সম্মিলিতভাবে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পোস্টে লেখা হয়েছে, “তাই বন্ধুরা, অবিলম্বে আমরা আমাদের এই পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আমাদের পদত্যাগের ফলে বাংলা ভাষার বাক্যব্যবস্থায় যে অনিবার্য অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।”

আবেগের সাথে তাদের এই বিদ্রোহের কথা জানাতে পোস্টে আরও লেখা ছিল—

“নেব না নেব না নেব না

অন্যায় মেনে,

রব না রব না রব না ঘরের কোণে

ঘরের কোণে!”

পুনরায় তাদের পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়ে বলা হয়েছে, “তাই বন্ধুরা, অবিলম্বে আমরা আমাদের এই পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আমাদের পদত্যাগের ফলে বাংলা ভাষার বাক্যব্যবস্থায় যে অনিবার্য অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।”

সবশেষে বিদায়বেলায় তাদের অনুরোধ, “তোমাদের এই বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়াকে ভুলে যেয়ো না। ফেসবুকে না পেলে imo-তে পাবেই আমাদের।”